গত ২০ বছরে প্রযুক্তি পরিবর্তিত হয়েছে খুব দ্রুত। বিনোদনের মাধ্যমও গেছে বদলে। সিনেমা হল থেকে একসময় সিনেমা এল মানুষের ঘরে। স্যাটেলাইট টেলিভিশনের আগে এসেছিল ক্যাসেট যা ভিসিআর নামে পরিচিত। ভিসিআরের পর জনপ্রিয় হলো ডিভিডি। ডিজিটাল ভিডিও ডিস্ক নামে এ ফরম্যাটে দর্শক সিনেমা দেখেছে বহুদিন। সিনেমার পাশাপাশি মিউজিক ভিডিও, গানের জন্যও ব্যবহূত হতো ডিভিডি। এরপর মাল্টিপ্লেক্স থেকে শুরু করে ইন্টারনেটের বহুল ব্যবহার তথা ডাউনলোড সংস্কৃতির কারণে ডিভিডির সুবর্ণ সময় চলে গেল। এখন প্রায় কেউই আর ডিভিডি ব্যবহার করে না। তবে অনেকের কাছে রয়ে গেছে ডিভিডির সংগ্রহ। ভারতীয় সিনেমা পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ এদের মধ্যে অন্যতম। তিনি মনে করেন, ডিভিডির চাহিদা খুব বেশি না হলেও এ ফরম্যাট টিকিয়ে রাখা উচিত। কেননা বহু মানুষ এখনো বস্তুগত মাধ্যম পছন্দ করে।

অনুরাগের বাড়িতে আছে ডিভিডির দুর্লভ সংগ্রহ। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, ‘আমি সেই ২০০০ সাল থেকে ডিভিডি সংগ্রহ করতে শুরু করি। এ সময় বিধু বিনোদ চোপড়ার মিশন কাশ্মীরে কাজ করছিলাম। তিনি বলেছিলেন, প্রথমে একটা সাইনিং অ্যামাউন্ট আমাকে দেবেন আর বাকি টাকা সিনেমার শেষে পাওয়া যাবে। আমি অগ্রিম টাকার বদলে তার কাছে ডিভিডি প্লেয়ার চাইলাম। তিনি আমাকে যে ডিভিডি প্লেয়ারটি দেন তার দাম ছিল ২২ হাজার রুপি। এরপর দীপা মেহতার সঙ্গে ওয়াটার সিনেমায় কাজ করার সময় তিনি আমাকে ছয়টি সিনেমার ডিভিডি দেন যার মধ্যে ছিল দ্য ওয়াইল্ড বাঞ্চ (১৯৬৯), ট্যাক্সি ড্রাইভার (১৯৭৬) ও মিন স্ট্রিটস (১৯৭৩)।’

এরপর যখনই সুযোগ পেয়েছেন, অনুরাগ কাশ্যপ ডিভিডি কিনেছেন। তার কাছে দেশ-বিদেশের বহু দুর্লভ সিনেমার ডিভিডি রয়েছে। এর জন্য প্রচুর অর্থ খরচ করতে হয়েছে তাকে। একটি স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে অনুরাগ জানিয়েছেন তিনি একবার বান্দ্রার চ্যারিয়ট লাইব্রেরি থেকে একটি ক্রাইটেরিয়ন বক্স কিনেছিলেন, যার দাম পড়েছিল দেড় লাখ রুপি। কাশ্যপ বলেন, ‘আমার কাছে অত টাকা তখন ছিল না। তিন কিস্তিতে শোধ করেছিলাম।’ বর্তমানে তার কাছে প্রায় ১০ হাজার ডিভিডি রয়েছে।

কিন্তু ডিভিডি সংগ্রহ করার কারণ কী? এটা কি কাশ্যপের কোনো বাতিক, নাকি কোনো উদ্দেশ্য আছে? কাশ্যপ বলেন, ‘আমার মনে হয় স্ট্রিমিং সাইটগুলো একসময় এসব সিনেমা প্রচার করা বন্ধ করে দেবে। এখন আমি ক্ল্যাসিক ও নির্বাক সিনেমার ডিভিডি সংগ্রহ করি। আমি ফিজিক্যাল ফরম্যাটে রাখতে চাই এগুলো। এসব তো ওটিটিতে নেই।’

ডিভিডি সংগ্রহ করতে গিয়ে নানা সময়ে নানা অভিজ্ঞতাও হয়েছে অনুরাগ কাশ্যপের। একবার একটা সিনেমার কাজে যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন তিনি। সে প্রজেক্টের সমস্ত আয় অনুরাগ ডিভিডি কিনতে খরচ করেছিলেন। ইউনিটের সবাই অনুরাগের এ আচরণ দেখে তাকে পাগল ভাবছিল। আর এমন পাগলামি থাকার কারণেই তিনি এখনো ডিভিডি কিনতে পারেন। কারণ ডিভিডির খুব বেশি দোকান ভারতে নেই। কাশ্যপকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি আসলে ভারত থেকে ডিভিডি কিনি না। এখানে ডিভিডি আর নেই বললেই চলে। অন্য কোনো দেশে আমার পরিচিত কেউ গেলে তাকে ডিভিডি আনতে বলি। বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানে লস অ্যাঞ্জেলেসে গেল। ওকে আমি বেশকিছু ডিভিডি আনতে বলেছিলাম।’

ডিভিডির চল কমে যাওয়ার পেছনে অন্যতম একটি যুক্তি হলো ডিভিডি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। স্ক্র্যাচ পড়া আর সে কারণে দেখতে অসুবিধার কথা আমাদের জানা। কিন্তু কাশ্যপ বলেন, ‘আমি জানি ডিভিডি কেমন করে পরিষ্কার করতে হয়। প্রতি দুই বছরে আমি এগুলো পরিষ্কার করি। সাধারণত বছর পাঁচেক পড়ে থাকলে এগুলো নষ্ট হয়ে যায়।’

এই ফোর-কে যুগেও কাশ্যপ ডিভিডি সংগ্রহ করেন এবং বিশ্বাস করেন কিছু পরিমাণে হলেও ডিভিডি উৎপাদন করা উচিত। কেননা ডিজিটাল স্ট্রিমিং সব ধরনের সিনেমা রাখবে না। পাশাপাশি অনেকে এখনো নিজের কাছে সংগ্রহ রাখতে পছন্দ করেন। অবশ্য কেউ দেখতে চাইলে কাশ্যপ তার ডিভিডি ধার দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

 

দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে