ভারতে যারা স্ট্রিট আর্ট জনপ্রিয় করেছেন তাদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় একজন হানিফ কোরেশি। গ্যালারির বাইরে গিয়ে তিনি শিল্পকে বিস্তৃত পরিসরে উপস্থাপন করেছেন। শিল্প নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংস্থা স্ট্রিট+আর্ট ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও শৈল্পিক পরিচালক তিনি। সংস্থাটির পরিচালক হিসেবে ম্যুরাল ও ইনস্টলেশন তৈরিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন দিল্লি, হায়দরাবাদ, মুম্বাইসহ ভারতের নানা শহরে। মাত্র ৪১ বছর বয়সে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে বিদায় নিলেন স্ট্রিট আর্টের এ পথিকৃৎ।
গুজরাটের ছোট এক শহর পালিতানায় ১৯৮২ সালের ১২ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন কোরেশি। শিল্পী পরিবারে জন্মগ্রহণ না করলেও টাইপোগ্রাফিতে যথেষ্ট আগ্রহ ছিল তার। হতে চেয়েছিলেন স্ট্রিট পেইন্টার। কোরেশি গুজরাটের ভাদোদরা শহরে অবস্থিত মহারাজা সায়াজিরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভিজুয়াল আর্টসে ডিগ্রি অর্জন করেন। কয়েক বছর বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কাজও করেছেন। স্ট্রিট+আর্ট ইন্ডিয়ার আরেক সহপ্রতিষ্ঠাতা অর্জুন বাহল বলেন, ‘যখন কোরেশি ছোট ছিলেন তখন যারা বিভিন্ন চিহ্ন আঁকতেন, নম্বর প্লেট তৈরি করতেন তাদের সঙ্গে সময় কাটাতেন তিনি।’
কোরেশি ও অর্জুন ২০১৪ সালে অক্ষত নৌরিয়াল, গিউলিয়া আমব্রোগি ও থানিশ থমাসের সঙ্গে স্ট্রিট+আর্ট ইন্ডিয়া প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তারা ভিন্ন পেশার হয়েও শিল্পকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে অভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদের প্রধান প্রকল্প ছিল এশিয়ান পেইন্টসের সহায়তায় স্ট্রিট আর্টের মাধ্যমে দিল্লির লোদি কলোনির চেহারা পাল্টে দেয়া। প্রকল্পের অংশ হিসেবে ৫০ জনেরও বেশি ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক শিল্পী কলোনির বিশাল দেয়ালে ম্যুরাল তৈরি করেন। এসব শিল্পকর্মে টাইপোগ্রাফি ও প্রাকৃতিক নানা প্রতীকের পাশাপাশি স্থানীয়দের কাজের প্রতিকৃতিও স্থান পেয়েছে। সংস্থাটি বেশ কয়েকটি সরকারি প্রকল্পেও কাজ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হচ্ছে দিল্লির তিহার জেলের সীমানাপ্রাচীরে ৯৬৮ মিটার দীর্ঘ একটি ম্যুরাল। ম্যুরালটিতে একজন বন্দির লেখা চারদিওয়ারি (চার দেয়াল) নামে কবিতার শ্লোক স্থান দেয়া হয়েছে।
কোরেশির স্বাধীন একটি শিল্প অনুশীলনও ছিল। তিনি ‘ডাকু’ ছদ্মনাম ব্যবহার করে ভারতজুড়ে সামাজিক বার্তা অন্তর্নিহিত চিন্তা-উদ্দীপক গ্রাফিতি এঁকেছিলেন। ২০১০ সালের দিকে ট্রাফিক সাইন ‘থামুন’ শব্দের নিচে তিনি ‘ধর্ষণ’, ‘ঘুস দেয়া’ ও ‘ভান করা’র মতো শব্দ যুক্ত করেছিলেন। তার কাজ নিয়ে বিবিসির একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ইন্ডিয়া’স ব্যাঙ্কসি ওয়ান্টস টু প্রভোক ভোটারস। তার মৃত্যুতে স্ট্রিট+আর্ট ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, ‘তিনি শিল্পী, নকশাকার ও সৃজনশীলদের এমন এক সম্প্রদায় নিজের মধ্যে লালন করতেন যারা তাকে অনুগত দিকনির্দেশনার মাধ্যমে বিশ্বাস করেছিলেন। তিনি গ্রাফিতি ও স্ট্রিট আর্টের একজন অগ্রণী ব্যক্তিত্ব ছিলেন।’










