২৬ জুলাই শুরু হয়েছে এ বছরের প্যারিস অলিম্পিক ২০২৪-এর আয়োজন। চার বছর পর এবার বছরের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজনে ৩২টি খেলার পাশাপাশি প্যারিস মিউজিয়াম সিদ্ধান্ত নিয়েছে কালচারাল অলিম্পিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিল্পের বিভিন্ন দিকগুলোকে বিশ্বব্যাপী জানান দেয়ার। এর মধ্যেও ছিল সুনির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্র। কারো ভাবনা ছিল আর্ট ডিসপ্লে করে নিজের কাজগুলো সবার সামনে তুলে ধরা। এর সঙ্গে একটি আর্ট ডিসপ্লের শিরোনাম হয়েছে লেস রিনকন্ট্রেস ডি’আর্লেস। যার অন্তর্ভুক্ত ছিল কেবল ফটোগ্রাফি। সেগুলোকেও আর্টের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া স্পোর্টস ফ্যাশনও রয়েছে প্যারিস কালচারাল অলিম্পিকের অধীনে। বেশকিছু অঙ্কিত চিত্রের পাশাপাশি এ আয়োজনে পর্যটকদের চোখে পড়বে কিছু ভাস্কর্যও।
প্যারিসের বিখ্যাত আর্ট মিউজিয়াম দ্য মিউস মারমোটান এ প্রদর্শনীর শিরোনাম দিয়েছে আর্টিস্ট অ্যান্ড স্পোর্টস। সেখানে দেখানো হবে পেইন্টার্স, ফটোগ্রাফার, ভাস্করদের বিশেষ কিছু কাজ। এর সঙ্গে তাদের কাজে আবার যুক্ত হয়েছে খেলা কীভাবে আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে পড়ল সেসব বিষয়েরও নানা কিছু।
এ প্রদর্শনী বিশ্বকে জানান দিতে চায় স্পোর্টস প্রথমে কেবল যুক্তরাজ্যের অভিজাতদের হাত ধরে ফ্রান্সেও ছড়িয়ে পড়েছিল শখের দরুন। বিশ্বব্যাপী এভাবে খেলাধুলা এগিয়ে যাবে, কারো পেশা হতে পারে এ ধরনের ধারণা ছিল না। তবে এবারই প্রথমবারের মতো প্যারিস অলিম্পিকের পাশাপাশি প্যারা অলিম্পিক এবং ভিন্ন ভাবনা থেকে এ ধরনের প্রদর্শনীরও আয়োজন করেছে।
এখানে ডেনিস চিত্রকর হারলে গিয়ারসিং এবং ফরাসি চিত্রকর মাইকেল গোমেরি তাদের বেশকিছু চিত্রকর্মের মধ্য দিয়ে ফুটবল ও রাগবি খেলার প্রতি মানুষের আলাদা এক ভালো লাগা তৈরি করেছেন। সে ছবিগুলোও দর্শক প্রদর্শনীতে দেখতে পাবে। এছাড়া নিউরোলজিস্ট পাউল রিচহার তার বিভিন্ন পোস্টার তৈরির মধ্য দিয়ে জানান দিয়েছেন কীভাবে অতিরিক্ত ব্যায়াম স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সেই সঙ্গে তার আঁকা কিছু পোস্টারও রয়েছে, যেগুলো মডার্ন অলিম্পিক ১৮৯৬-এর ঘোষণাপত্র ছিল। এর বাইরেও প্রদর্শনীতে থাকছে ফরাসি টেনিস চ্যাম্পিয়ন সুজানা লেঙ্গেলেনর বেশকিছু মেডেল, ফরাসি চিত্রকর মিউরাইস ডেনিসের আঁকা দুজন নারী খেলোয়াড়ের দৃশ্যপটও সেখানে দেখা যাবে। আরো রয়েছে ফরাসি চিত্রকর এডগার দেগাসে ১৮৬২ সালে আঁকা জেন্টলম্যান জকিস বিফোর দ্য স্টার্ট ছবিটি। এডগারের এ ছবিই প্রমাণ করে তিনি যে ফ্রান্সের ইমপ্রেশনিজম আন্দোলনের অংশ হয়েছিলেন। ইমপ্রেশনিস্ট শিল্পীর বৈশিষ্ট্য ছিল রক্ষণশীল ধারা থেকে বেরিয়ে ল্যান্ডস্কেপে আধুনিকতা ছড়ানো। মূলত ইমপ্রেশনিজম উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শিল্পচর্চায় পুরনো ধাঁচ থেকে বেরিয়ে আসার অর্থাৎ পরিবর্তন বয়ে এনেছিল। এ আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ল্যান্ডস্কেপে আঁকা আধুনিক নানা বিষয়। ইমপ্রেশনিজমের ফলে বিশ্ব পেয়েছে এডগার দেগাস ও ক্লদ মনেটের মতো শিল্পীদের।
প্রদর্শনীর উল্লেখযোগ্য বিশেষ কিছু কাজ হিসেবে রয়েছে মার্কিন চিত্রকর থমাস একিন্সের আঁকা দ্য বিগলিন ব্রাদার্স রেসিং (১৮৭২) ছবিটি, যা একটি বাস্তবমুখী তৈলচিত্র। যে ছবিটিও স্থান পেয়েছে প্যারিস কালচারাল অলিম্পিকের প্রদর্শনীতে। এ ছবি যে কোনো ফটোগ্রাফি নয় বরং হাতে আঁকা একটি চিত্রকর্ম তা হয়তো খুব কাছ থেকে না দেখলে বোঝাই যাবে না। এমন আরো কয়েকজন বিখ্যাত চিত্রকরের রিয়েলেস্টিং আর্ট দেখা যাবে প্রদর্শনীজুড়ে।
ফ্রেঞ্চ মিনিস্ট্রি অব কালচার অলিম্পিকের আয়োজনে প্রায় নয় লাখ ইউরো খরচ করেছে বলে জানা গেছে। কেবল আউটডোর এক্সিবিশনের জন্যই খরচ করা হয়েছে ১০ লাখ ডলার। এবং মিউজিয়ামের বাইরে রয়েছে ২০টি প্যাভিলিয়ন। যেগুলো তৈরি করেছে ফ্রান্সের বেশকিছু আর্কিটেকচার স্কুলের বহু শিক্ষার্থী মিলে। বিখ্যাত আর্কিটেক্ট বেরনারর্ড তৈরি করেছেন এর ভেতরের অবকাঠামো। প্রদর্শনীর প্রতিটি প্যাভিলিয়ন তুলে ধরেছে এক-একটি নির্দিষ্ট ধারার স্পোর্টসকে। তবে এসবই অস্থায়ী। অলিম্পিক ও প্যারা অলিম্পিক শেষ হলেই প্যাভিলিয়নগুলো সরিয়ে ফেলা হবে বলেই জানা গেছে। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর শেষ হতে চলেছে অলিম্পিকের এ প্রদর্শনী।










