গুস্তাভ ক্লিমট (১৮৬২-১৯১৮) অস্ট্রিয়ান বিখ্যাত চিত্রশিল্পী। দুই বছর আগে তার আঁকা শেষ ছবি— উজ্জ্বল, পাখা হাতে এক অজ্ঞাত মহিলার প্রতিকৃতি ১০৮ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়ে শিল্পীর নিলামমূল্যের রেকর্ড গড়েছিল। এবার সেই রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তারই আরেকটি বিশালাকৃতির, ছয় ফুট উঁচু প্রতিকৃতি নিলামে উঠার মাধ্যমে। ছবিটির নাম ‘পোর্ট্রেট অব এলিজাবেথ লেডেরার’। এটি এক তরুণ উত্তরাধিকারিণীর ছবি, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসিরা লুট করেছিল। দশকের পর দশক ধরে বিরলভাবে দেখা চিত্রকর্মটি এস্টি লডার পরিবারের উত্তরাধিকারী লিওনার্ড এ. লডারের বাড়িতে ছিল। লডার চলতি বছরের জুনে মারা যান।

আগামী সপ্তাহে ‘পোর্ট্রেট অব এলিজাবেথ লেডেরার’ নিলামে উঠবে এবং এটি ১৫০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি দামে বিক্রি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। নিলামে আয়োজক বিশ্বখ্যাত নিলাম প্রতিষ্ঠান সোথবিস।

গুস্তাভ ক্লিমটের কাজগুলোর মধ্যে, ‘এলিজাবেথ লেডেরার’-এর প্রতিকৃতি তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত। এ তরুণী ছিলেন ক্লিমটের ভিয়েনার সবচেয়ে ধনী পৃষ্ঠপোষকদের কন্যা। ক্লিমটের মৃত্যুর দুই বছর আগে প্রতিকৃতিটি সম্পূর্ণ হয়। চিত্রটিতে লেডেরারকে একটি হালকা, অলঙ্কারময় পোশাকে দেখানো হয়েছে, যার চারপাশে চীনা শিল্পের মোটিফে ভরা নকশা।

অনেক বছর ধরে ছবিটি নিউইয়র্কের ফিফথ অ্যাভিনিউতে লিওনার্ড লডারের বাড়িতে ঝুলে ছিল। ছবিটি বাইরে প্রদর্শিত হয়েছে খুবই কম। একবার ‘মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্টে’ এবং কয়েকবার ‘গ্যালারি নিউইয়র্কে’ (যা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন লিওনার্ডের ভাই) প্রদর্শিত হয়। তবে ২০১৭ সালে লডার এটি কানাডার ন্যাশনাল গ্যালারিতে ধার দেন, যেখানে এটি প্রথমবারের মতো দীর্ঘ সময় প্রদর্শিত হয় এবং সেখানেই ছিল চলতি বছরের শুরু পর্যন্ত।

নাৎসি লুট ও ট্র্যাজেডির ছাপ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অন্য একটি চিত্রকের্ম সঙ্গে ‘এলিজাবেথ লেডেরার’ ছবিটি ধ্বংসের হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পায়। নাৎসিরা লেডেরার পরিবারের বিশাল শিল্পসংগ্রহ বাজেয়াপ্ত করেছিল এবং এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তা দখলে রেখেছিল। ক্লিমটের অনেক কাজ ১৯৪৩ সালে ভিয়েনায় প্রদর্শিত হয়, পরে সেগুলো ইমেনডর্ফ দুর্গে রাখা হয়, যা যুদ্ধের শেষে আগুনে পুড়ে যায়। কিন্তু পারিবারিক প্রতিকৃতিগুলো— ইহুদি ঐতিহ্যের কারণে প্রদর্শনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি— আলাদা করে সরিয়ে রাখা হয়, আর সেগুলোই বেঁচে যায়।

এলিজাবেথ লেডেরার মাত্র ২০ বছর বয়সে ক্লিমটের জন্য পোজ দিয়েছিলেন। ক্লিমট ছিলেন তাদের পরিবারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং লেডেরারের শিশু বয়সের অঙ্কনের শিক্ষক।

ক্লিমটের কিছু কাজ পুনরুদ্ধার ও মালিকানা নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। কিন্তু ১৯৪৮ সালে লেডেরারের প্রতিকৃতি তার ভাই এরিকের হাতে ফেরত আসে। এরিককে ক্লিমটের বন্ধু ও সমসাময়িক শিল্পী এগন শিলেও তার চিত্রে ফুটিয়ে তুলেছেন। জীবনের শেষ পর্যন্ত ছবিটি তার কাছেই ছিল।

১৯৮৩ সালে শিল্প ব্যবসায়ী সার্জ সাবার্সকি ছবিটি ক্রয় করেন এবং দুই বছর পর তা বিক্রি করেন লিওনার্ড লডারের কাছে, যিনি তখন ক্লিমটের কাজের প্রতি গভীর আগ্রহী। তিনি ছিলেন প্রকৃত ইতিহাস-মনস্ক। ইউরোপীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতি তাকে গভীরভাবে আকর্ষণ করত।

সূত্র: সিএনএন