নীলনদের পশ্চিম তীরে অবস্থিত মিসরীয় একটি শহর গিজা। এ শহরেই রয়েছে ‘গিজা পিরামিড চত্বর’, যেখানে তিন বছর ধরে মিসরভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠন আর্ট ডি’ইজিপ্ট ‘ফরএভার ইজ নাউ’ শিরোনামে শিল্পকলার প্রদর্শনীর আয়োজন করে আসছে। প্রাচীন স্থাপত্যের সঙ্গে আধুনিক শিল্পকলার মেলবন্ধনের এ প্রদর্শনীর এবার বসেছে চতুর্থ আসর। সোনালি আভায় মরুভূমি ও পিরামিডের আইকনিক পটভূমিতে ভাস্কর্যগুলো এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে যে দর্শকের কাছে প্রদর্শনীকে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর সিনেমার মতো মনে হতে পারে।
২৪ অক্টোবর শুরু হওয়া এ বছরের প্রদর্শনীর আয়োজন করেছেন নাদিন আবদেল গাফফার ও তার কোম্পানি কালচারভেটর। এতে ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আমেরিকার ১২ জন আন্তর্জাতিক শিল্পী অংশ নিয়েছেন। আর্ট ডি’ইজিপ্টের প্রস্তাব অনুযায়ী এবারের কিউরেটরিয়াল থিম হলো ‘শিল্পী ও দর্শক উভয়কেই আধুনিক দিনের প্রত্নতাত্ত্বিকের ভিত্তিতে সাধারণের মধ্যে অন্তর্নিহিত অর্থের স্তরগুলো উন্মোচন করতে সৃজনশীলতাকে তাদের সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করা’।
গাফফার বলেন, ‘অন্যবারের চেয়ে এবারের আসর বিশেষ। কারণ এশিয়ার শিল্পীরা প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন। এতে সীমানা পেরিয়ে আলোচনা ও সম্পর্কের দাঁড় উন্মোচন হয়েছে। আমাদের ধারণা ইতিহাসের আকর্ষণীয় গল্পগুলোর দিকে নজর দেয়া এবং আধুনিক শিল্প কীভাবে বিষয়গুলো পরিবর্তন করতে পারে তাও অন্বেষণ করে।’
প্রদর্শনীর পাশাপাশি সংগীত পরিবেশনার আয়োজনও থাকবে। তিনি জানান, দক্ষিণ ও উত্তর কোরিয়ায় জনপ্রিয় কোরিয়ান লোকসংগীত আরিরাং পরিবেশন করা হবে। প্রদর্শনীতে ইক জং-কাংয়ের একই চেতনায়, তবে ভিন্ন শৈলীতে কানাডার শহর ভ্যানকুভারে অবস্থিত লেবানিজ/মিসরীয় শিল্পী মেরি খৌরির ‘আই লাভ’ শিরোনামে একটি ইনস্টলেশন থাকছে। শিল্পকলাটি এর আগে ভ্যানকুভার আর্ট গ্যালারিতে প্রদর্শিত হয়েছিল। এটি মেরি খৌরির আরবি বর্ণমালা সিরিজের অংশ এবং শান্তি ও ঐক্যের বার্তা বহন করে। গিজা পিরামিড চত্বরে ‘ফরএভার ইজ নাউ’ শেষ হবে আগামী ১৬ নভেম্বর।










