বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আধুনিক ও সমকালীন শিল্পকলার মেলা ‘আর্ট বাসেল প্যারিস’। প্রতি বছর অক্টোবরের মাঝামাঝি এটি অনুষ্ঠিত হয় ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে। চার দিনব্যাপী আয়োজনটি পরিচালনা করে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আর্ট বাসেল, যার সহযোগী হিসেবে কাজ করে এমসিএইচ গ্রুপ। বিশ্বের নামি-দামি গ্যালারি, সংগ্রাহক ও শিল্পপ্রেমীরা এখানে একত্র হন।

এবারের আর্ট বাসেল প্যারিস সপ্তাহে আন্তর্জাতিক শিল্পবাজারের এ উৎসব ঘিরেই নজর কেড়েছে নিলামঘর সদবি’জ। চলতি অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে আয়োজিত দুটি বিশেষ নিলামে তারা বিক্রি করেছে মোট ৮ কোটি ৯৭ লাখ ইউরো, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ২৭৭ কোটি, আগের বছরের একই সময়ের বিক্রির তুলনায় যা ৫০ শতাংশ বেশি। এটি প্যারিসে সদবি’জের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ আয়ের নিলাম সিরিজ হিসেবে রেকর্ড গড়েছে।

প্রথম নিলাম ছিল ‘সুররিয়ালিজম আঁ দি লিগ্যাসি’, যেখানে অবচেতন ভাবনা ও স্বপ্ননির্ভর শিল্পধারার কাজগুলো তোলা হয়। দ্বিতীয় নিলাম ‘মদর্নিতে’, যেখানে আধুনিক ধারার চিত্রশিল্পীদের সৃষ্টি জায়গা পায়।

দুই নিলামের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে ইতালীয় শিল্পী আমেদেও মোদিলিয়ানির ছবি ‘এলভির আন বিউস্টে’ (১৯১৮-১৯)। নিলামের আগে এর দাম অনুমান করা হয়েছিল সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ ইউরো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি বিক্রি হয় ২ কোটি ৭০ কোটি ইউরোয় (প্রায় ৩৮৫ কোটি টাকা)। ফ্রান্সে মোদিলিয়ানির কোনো ছবির জন্য এটিই এখন পর্যন্ত হাঁকানো সর্বোচ্চ দাম। প্যারিসে সদবি’জের ইতিহাসেও এটি সবচেয়ে মূল্যবান শিল্পকর্ম। ছবিটির জন্য সাতজন ক্রেতা প্রতিযোগিতা করেন। এটি সর্বশেষ প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল ১৯৪৭ সালে, এরপর দীর্ঘ সময় ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছিল।

মোদিলিয়ানির আরেক ছবি রেমন্ডের (১৯১৫) জন্যও ছিল তীব্র দরপত্র। প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক রেমন্ড রদ্রিগের ছবিটি ৬৫ বছর ধরে ছিল ব্যক্তিগত সংগ্রহে। ১০ মিনিটের প্রতিযোগিতায় এটি বিক্রি হয় ১ কোটি ৬ লাখ ইউরোয় (প্রায় ১৫১ কোটি টাকা), যা পূর্বানুমানের দ্বিগুণের বেশি।

সুররিয়ালিস্ট নিলাম থেকে বিক্রি হয়েছে মোট ২ কোটি ৬৯ লাখ ইউরোর (প্রায় ৩৮৩ কোটি টাকা) শিল্পকর্ম। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত রেনে মার্গারিতের বিখ্যাত ছবি ‘লা মাজি নোয়ার’ (১৯৩৪)। এটি বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ৭ লাখ ইউরোয় (প্রায় ১৫২ কোটি টাকা)। সিরিজটির মধ্যে এটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রি হওয়া কাজ। ছবিটি প্রায় এক শতাব্দী ধরে নাৎসি নিপীড়নের সময় ইহুদি শিশুদের বাঁচাতে জীবন উৎসর্গ করা সুজান স্পাকের পরিবারের কাছে ছিল।

সদবি’জ ফ্রান্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট টমা বম্পার বলেন, ‘নিলামটি সদবি’জের জন্য বিশেষ এক মুহূর্ত। আসল ও বিরল শিল্পকর্মের বাজার স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে।’

দ্বিতীয় পর্ব অর্থাৎ মদর্নিতে নিলামে বিক্রি হয়েছে ৬ কোটি ২৮ লাখ ইউরো (প্রায় ৮৯৪ কোটি টাকা) মূল্যের শিল্পকর্ম। এর মধ্যে পাবলো পিকাসোর সম্পূর্ণ সিরিজ ৩৪৭ এচিংস বিক্রি হয়েছে ১৯ লাখ ইউরোয় (প্রায় ২৭ কোটি টাকা)। এটি ফ্রান্সে পিকাসোর কোনো ছাপচিত্র সিরিজের জন্য সর্বোচ্চ দাম।

উভয় নিলামে তোলা প্রায় ৯০ শতাংশ শিল্পকর্ম বিক্রি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা কিনেছেন মোট বিক্রীত সুররিয়ালিস্ট শিল্পকর্মের এক-তৃতীয়াংশ।

সূত্র ও ছবি: আর্টনিউজ