শিল্পকর্ম সংগ্রহে রাখতেও আছে নানা জটিলতা। করের বোঝা এর মধ্যে অন্যতম। তা কমাতে প্রায় ৮ কোটি ডলারের শিল্পকর্ম সরকারি সংগ্রহে দান করেছেন যুক্তরাজ্যের কয়েকজন সংগ্রাহক। আর্ট কাউন্সিল ইংল্যান্ড ২০২৪-২৫ সংস্করণে কালচারাল গিফটস স্কিম (সিজিএস) ও অ্যাকসেপ্টেন্স ইন লিউ (এআইএল) ইনিশিয়েটিভসের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এ ধাপে মোট ৩২টি শিল্পকর্ম যুক্তরাজ্যের সরকারি সংগ্রহে স্থানান্তরিত হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের সরকারি সংগ্রহে আসা শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো এডগার দেগার চিত্র ‘ড্যন্সিয়াস রোজ’। এটি ব্রিটেনের লন্ডনে অবস্থিত ন্যাশনাল গ্যালারিকে দান করেছে অ্যান মার্কসের এস্টেট। এছাড়া সিএম এবং ডরোথি কফম্যানের সংগ্রহ থেকে ম্যাক্স লিবারম্যান ও ম্যাক্স পেকস্টেইনের চিত্রকর্ম দান করা হয়েছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির অ্যাশমোলিয়ান মিউজিয়ামে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন ডিসরেইলি ও উইনস্টন চার্চিলের ব্যবহৃত ‘মেহগনি স্ট্যান্ডিং ডেস্ক’ ন্যাশনাল ট্রাস্টকে প্রদান করা হয়েছে। এটি বাকিংহামশায়ারের হিউজেন্ডেন ম্যানরে প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। ফটোজার্নালিস্ট বিল ব্র্যান্ডটের ৭৭টি ফটোগ্রাফ ব্রিটেনে অবস্থিত বিখ্যাত আর্ট গ্যালারির চেইন টেইটকে দান করেছেন জন-পল কারনট।
উল্লেখ্য, আর্ট কাউন্সিল ইংল্যান্ডের এ প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত শিল্পকর্ম স্থানান্তরের তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া এআইএল প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য হলো জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন শিল্পকর্ম ও সংগ্রহকে পাবলিক মিউজিয়াম ও লাইব্রেরিতে রাখা এবং দাতাদের করের বোঝা কমানো।
এ বিষয়ে আর্টস কাউন্সিল ইংল্যান্ডের চেয়ারম্যান নিকোলাস সেরোটা বলেন, ‘এ বছর শিল্পকর্মের বড় অংশ স্থানীয় ও আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে গেছে। তবে প্রতি বছর যুক্তরাজ্যের সরকার তহবিল ও শিল্পকর্ম সংগ্রহের জন্য যে অর্থ বরাদ্দ করে তার পরিমাণ ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে।’
আর্ট কাউন্সিল ইংল্যান্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যানুযায়ী, এবারের সংস্করণে দাতারা যে সম্পদ বা শিল্পকর্ম দান করেছেন তার আর্থিক মূল্য তাদের পরিশোধযোগ্য করের পরিমাণের চেয়ে বেশি ছিল। তাই শুধু কর মওকুফ দিয়ে পুরো মূল্য সমন্বয় করা সম্ভব হয়নি। সেক্ষেত্রে যে প্রতিষ্ঠান দানটি গ্রহণ করেছে তারা দাতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে তা পরিশোধ বা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করেছে।
গত ১০ বছরে সিজিএস ও এআইএলের মাধ্যমে মোট ৪৬১টি শিল্পকর্মের মালিকানা স্থানান্তরিত হয়েছিল, যার মোট মূল্য ছিল প্রায় ৭২ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
আর্ট কাউন্সিল ইংল্যান্ডের হালনাগাদ প্রতিবেদনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাব ফেলতে সক্ষম কাজের উদাহরণ হিসেবে আলাদা কেস স্টাডি তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ক্লদ মঁনের ‘লে’এপ্তে আ জিভেরনি’ (১৮৮৪ খ্রি.)। এটি ২০২৩ সাল থেকে লিভারপুলের ওয়াকার আর্ট গ্যালারির সংগ্রহে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে স্টিফেন হকিংয়ের আর্কাইভ, যা ২০২১ সালে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরিতে স্থান পায়। এছাড়া বারবারা হেপওয়ার্থের ‘অরফিয়াস’ (১৯৫৬) ভাস্কর্যের মাকেট (ছোট সংস্করণ) ২০২০ সাল থেকে হেপওয়ার্থ ওয়েকফিল্ডে সংরক্ষিত আছে।
যুক্তরাজ্যের এ উদ্যোগ শিল্পকর্মকে সরকারি সংগ্রহে রাখার পাশাপাশি কর সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে দাতাদের উৎসাহিত করছে। এছাড়া এর মাধ্যমে দেশীয় ও আঞ্চলিক মিউজিয়ামে শিল্পকলার প্রবেশাধিকারও বাড়ানো হচ্ছে।
সূত্র ও ছবি: আর্টনিউজ










