মুম্বাইয়ে শুরু হয়েছে নতুন এক শিল্প প্রদর্শনী। এটি ভারতীয় ও আরব আধুনিক শিল্পের সম্পর্ককে তুলে ধরছে। ‘রেজোন্যান্ট হিস্টোরিজ’ নামের এ প্রদর্শনী চলছে ‘ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ বাস্তু সংগ্রহ’তে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহভিত্তিক বারজিল আর্ট ফাউন্ডেশন ৪০টির বেশি শিল্পকর্ম ধার দিয়েছে এ প্রদর্শনীর জন্য। মুম্বাইয়ের জাহাঙ্গীর নিকলসন আর্ট ফাউন্ডেশনের ভারতীয় শিল্পকর্মের সঙ্গে এগুলো প্রদর্শিত হচ্ছে।
প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে একটু ভিন্নভাবে। এখানে মূলত ভারতীয় ও আরব আধুনিক শিল্পীদের কাজে অদেখা দৃশ্যগত মিল ফুটে উঠেছে। উদাহরণস্বরূপ সিরিয়ার শিল্পী মারওয়ান কাসাব-বাচি ও মুম্বাইয়ের প্রখ্যাত শিল্পী ফ্রান্সিস নিউটন সোজা দুজনেরই কাজ আলাদা হলেও একই ধরনের গভীর সত্যের সন্ধান ও মনোমুগ্ধকর অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তোলে।
প্রদর্শনীতে কেবল শিল্পকর্মের মিলই উঠে আসেনি, উদ্বোধনী অংশ ‘ভিশন অব ফ্রিডম’-এ প্রথম বিভাগে শিল্পীরা ঔপনিবেশিক শক্তি দ্বারা বিভক্ত বিশ্বে স্বাধীনতার ‘অন্ধকার’ দিকগুলো তুলে ধরেন। উদাহরণস্বরূপ সমাজতান্ত্রিক চিত্রশিল্পী চিত্তপ্রসাদ ভট্টাচার্যের আঁকা কালো রঙের শক্তিশালী ও গভীর অর্থপূর্ণ ছবিতে দেখানো হয়েছে দেশে ধন-সম্পদ থাকা সত্ত্বেও নতুন স্বাধীন ভারতের মানুষ কতটা ক্ষুধার্ত ও কষ্টে ছিল।
প্রদর্শনীতে আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছু চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে। যেমন সংযুক্ত আরব আমিরাতের চিত্রশিল্পী আবদুল কাদির আল রাইসের ১৯৭০ সালের ‘ওয়েটিং’। ছবিতে মধ্যপ্রাচ্যের লাখ লাখ শরণার্থীর অনিশ্চিত ও কঠিন জীবনের চিত্র উঠে এসেছে। এছাড়া সিরিয়ার চিত্রশিল্পী নাইম ইসমাইলের ১৯৬৯ সালের ‘আল ফিদ্দাইয়্যুনে’ ফিলিস্তিনি মুক্তিকামী যোদ্ধাদের কেফিয়ের জ্যামিতিক নকশা (পাগড়ির মতো স্কার্ফ) ক্যানভাসে ফুটে উঠেছে।
বারজিল আর্ট ফাউন্ডেশনের কিউরেটর সুহেইলা তাকেশ বলেন, ‘এসব চিত্রকর্ম আজকের দিনেও প্রাসঙ্গিক। কারণ শিল্পগুলোয় উঠে আসা বিষয়গুলো এখনো সমাজে বিদ্যমান।’
প্রদর্শনীতে আরো দেখানো হয়েছে, ভিন্ন দেশ বা অঞ্চলের শিল্পীরা পরস্পরের কাজ ও শিল্পশৈলীর সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হয়েছেন এবং একে অপরের শৈলী বা ধারণাকে গ্রহণ করেছেন। উদাহরণ হিসেবে নন-অ্যালায়ন্ড আন্দোলনের সময় আরব শিল্পীরা ভারত সফর করেন এবং এখানকার স্থানীয় শিল্পশৈলী থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে নিজেদের কাজে ব্যবহার করেন। এর ফলস্বরূপ উদ্ভব হয় ১৯৫৫ সালের ‘দ্য লোটাস গার্ল’, যেখানে মিসরীয় শিল্পী নাজেক হামদি বাঙালি লোকশিল্পের দৃষ্টিনন্দন শৈলী ব্যবহার করেছেন।
জাহাঙ্গীর নিকলসন আর্টের পরিচালক পূজা বৈশ্য বলেন, ‘হামদির কাজের পাশে বেঙ্গল স্কুলের শিল্পকর্মগুলো রাখা হয়েছে। কারণ চেহারা ও বিষয়বস্তুতে এগুলোয় অত্যন্ত মিল লক্ষ করা যায়। প্রদর্শনীটি শুধু চিত্র দেখানোর জন্য নয়, বরং শিল্পের ইতিহাস, শৈলী ও প্রভাব নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ভাবনা ও আলোচনা জাগানোর মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।’
সামগ্রিকভাবে রেজোন্যান্ট হিস্টোরিজ প্রদর্শনী ভারতীয় ও আরব আধুনিক শিল্পীদের সংযোগ তুলে ধরতে শক্তিশালী সূচনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে অনেকের মতে, একটি আঞ্চলিক প্রদর্শনীর জন্য ভারতের বাইরে থাকা দক্ষিণ এশিয়ার শিল্পীদের কাজকেও অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। কারণ একই সময়ে ও একই প্রেক্ষাপটে তৈরি শিল্পকর্মগুলোকে পাশাপাশি দেখানো হলে আরো ভালো অঞ্চলভিত্তিক আলোচনা ও সম্পর্ক ফুটে উঠবে।
সূত্র: দি আর্ট নিউজপেপার










