ছবিটি নিলামে ৩০-৪০ লাখ পাউন্ডে বিক্রি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশী মুদ্রায় ৬৫ কোটি টাকার বেশি।

চিত্রকর্মটিতে স্কটিশ হাইল্যান্ডসের একটি পাহাড়চূড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা ১২ শাখাবিশিষ্ট এক রাজকীয় হরিণকে দেখা যায়। চিত্রকর্মটি রেলওয়ে ব্যবসায়ী এডওয়ার্ড ল্যাড বেটস তার কেন্টের বাসভবনের জন্য তৈরি করিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে এটি বিভিন্ন ব্যক্তিগত সংগ্রহের অংশ হয়ে ওঠে। সর্বশেষ ১৯৯৪ সালে এটি নিলামে বিক্রি হয়েছিল। তখন এর মূল্য ছিল ৭ লাখ ৯৩ হাজার ৫০০ পাউন্ড।

চিত্রকলা বিভাগের সিনিয়র পরিচালক জুলিয়ান গ্যাসকয়েন বলেন, ‘কাজটি ল্যান্ডসিয়ারের হাইল্যান্ডসভিত্তিক শ্রেষ্ঠ মাস্টারপিসগুলোর একটি।’

তিনি একে মোনার্ক অব দ্য গ্লেনের ‘সিস্টার পেইন্টিং’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ‘যেখানে মোনার্ক তরুণ হরিণের দীপ্তিময় যৌবনকে তুলে ধরে, সেখানে এটি অনেক বেশি গাঢ়, মহাকাব্যিক ও নাটকীয় এক দৃষ্টিভঙ্গি। এতে রয়েছে মহিমা, টানটান উত্তেজনা ও হাইল্যান্ডসের এক আইকনিক রূপ।’

তিনি জানান, চিত্রকর্মটি জনসমক্ষে খুব কমই প্রদর্শিত হয়েছে এবং ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকা ল্যান্ডসিয়ারের সবচেয়ে চমকপ্রদ কাজগুলোর একটি। বিশাল আকারের এ শিল্পকর্ম প্রাণিচিত্র অঙ্কনের ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পীর এক অনন্য মাস্টারপিস।

রানী ভিক্টোরিয়ার প্রিয় শিল্পী ছিলেন স্যার এডউইন ল্যান্ডসিয়ার। তিনি নিয়মিত বালমোরালের নিকটবর্তী মার লজে অবস্থান করতেন। মোনার্ক অব দ্য গ্লেন তার সবচেয়ে বিখ্যাত কাজ এবং ব্রিটিশ শিল্পকলার ইতিহাসে অন্যতম বহুল পরিচিত ও পুনর্মুদ্রিত চিত্রকর্ম।

নানা পণ্যে এ ছবির ব্যবহার দেখা গেছে। এমনকি জনপ্রিয় মার্কিন টিভি সিরিজ সিটস ক্রিকেও প্রদর্শিত হয়েছিল। চিত্রকর্মটি ১৭ বছর ধরে পানীয় প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ডিয়াজিওর কাছ থেকে ধার নিয়ে ন্যাশনাল গ্যালারিজ অব স্কটল্যান্ডে প্রদর্শিত হচ্ছিল। পরে প্রতিষ্ঠানটি এটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। মোনার্ক অব দ্য গ্লেনের তুলনায় কম পরিচিত হলেও সিন ইন ব্রিমার গুরুত্বপূর্ণ। ছবিটি বেশ বড়। প্রায় নয় ফুট (২.৭৪ মিটার) দীর্ঘ।

১৮৫৯ সালে শিল্পপতি এডওয়ার্ড বেটস এ মহাকাব্যিক কাজ দেখে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে ল্যান্ডসিয়ার যে পারিশ্রমিক চেয়েছিলেন তার চেয়ে ২০০ পাউন্ড বেশি দিয়ে মোট ৮০০ পাউন্ড দেন।

তবে এক ব্যাংকিং সংকটের কারণে ১৮৬৮ সালে বেটসকে তার পুরো শিল্প সংগ্রহের সঙ্গে এ চিত্রকর্মও বিক্রি করতে হয়। ফলে সিন ইন ব্রিমার ৪ হাজার গিনিতে বিক্রি হয়ে সে সময়ের একটি রেকর্ড গড়ে।

১৮৫৭ সালে দ্য টাইমস পত্রিকা চিত্রকর্মটিকে ‘ভাবনা ও প্রভাবে অসাধারণ’ বলে আখ্যায়িত করে এবং মোনার্ক অব দ্য গ্লেনের উপযুক্ত সঙ্গী হিসেবে উল্লেখ করে।

১৮৬৮ সালে ক্রিস্টি’জ-এর নিলামে এটি আবার বিক্রি হয় এবং শিল্প সংগ্রাহক হেনরি উইলিয়াম ফার্ডিনান্ড বোলকোর সংগ্রহে অন্তর্ভুক্ত হয়। বোলকোর মৃত্যুর পর ১৮৮৭ সালে তার সংগ্রহের ৭০টি শিল্পকর্ম বিক্রি করা হয়, যার মধ্যে এ ছবিও ছিল।

চিত্রকর্মটি বিভিন্ন সময়ে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত গ্যালারিতে প্রদর্শিত হয়েছে। ২০০৫ সালে এডিনবরায় ল্যান্ডসিয়ারকে উৎসর্গ করে আয়োজিত একটি বড় প্রদর্শনীতে মোনার্ক অব দ্য গ্লেনের পাশাপাশি সিন ইন ব্রিমারও প্রদর্শিত হয়েছিল।

সূত্র ও ছবি: বিবিসি