গতকাল রাজধানীতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

তিনি আরো জানান, একই অনুষ্ঠানে মৎস্য উৎপাদন, গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, সম্প্রসারণ, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৩টি ক্যাটাগরিতে ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় মৎস্য পদক (স্বর্ণপদক) দেয়া হবে।

আমিন উর রশিদ বলেন, ‘‌১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের জর্জ ইনস্টিটিউট মিনি স্টেডিয়াম মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রধান অতিথি থেকে জাতীয় মৎস্য পক্ষের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন এবং নির্বাচিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে জাতীয় মৎস্য পদক তুলে দেবেন।’

তিনি জানান, জাতীয় মৎস্য পদক দেশের মৎস্য খাতে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এ বছর গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, মৎস্য উৎপাদন, সম্প্রসারণ, প্রশাসনিক দক্ষতা, উদ্যোক্তা উন্নয়নসহ মোট ১৩টি ক্যাটাগরিতে ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এ পদকে ভূষিত হবে। এর মাধ্যমে মৎস্য খাতে উদ্ভাবন, বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে সংশ্লিষ্টদের আরো উৎসাহিত করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘‌জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের সব জেলা ও উপজেলায় নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, সেমিনার, মৎস্য মেলা, সফল মৎস্যচাষীদের সম্মাননা, পোনা মাছ অবমুক্তকরণ, প্রযুক্তি প্রদর্শনী, গণসচেতনতামূলক প্রচার ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণবিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রম। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে নিরাপদ মাছ উৎপাদন, টেকসই মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ ও মাছের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো হবে।’

তিনি বলেন, ‘‌বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা, পুষ্টি, কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে মৎস্য খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। এ খাতকে আরো আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও রফতানিমুখী করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।’