২০১৯ সালের প্রথম দিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (গাসিক) হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ২০২২ সালে এ বিষয়ে একটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে সাড়ে তিন বছর পরও মামলার অভিযোগপত্র দেয়নি সংস্থাটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নজরুল ইসলাম গাসিকের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে ভুয়া বিল ভাউচার ও নোটশিট তৈরি করেন। পরে তৎকালীন মেয়র এমএ মান্নানের অসুস্থতার সুযোগে বিভিন্ন চেকে মেয়রের ফ্লেক্সোসিল ব্যবহার ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষর নিয়ে সিটি করপোরেশনের টাকা ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক টঙ্গী শাখায় নিজের অ্যাকাউন্টে জমা করেন। অ্যাকাউন্টে ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত জমা করা টাকার পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ৪০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৮৮ টাকা। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এর সহকারী পরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম ২০১৯ সালে বিষয়টি তদন্ত করেন। ২০২২ সালে ৮২ লাখ ৩৪ হাজার ৮২৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নজরুলের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করে দুদক। ওই বছর ৬ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে দুদক একটি মামলাও করে।

সিটিক করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত দিতে সে সময় নজরুলকে চিঠি দেয়া হয়। তবে তিনি টাকা ফেরত দেননি। এ অবস্থায় গাসিক কর্তৃপক্ষ আত্মসাৎ করা টাকা সমন্বয় করার লক্ষ্যে তার খোরপোষ প্রদান স্থগিত রাখে।

নাম অপ্রকাশ রাখার শর্তে গাসিকের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, নজরুলকে সাময়িক বরখাস্ত করার পর কর্তৃপক্ষ টাকা ফেরতের নির্দেশ দিলেও তিনি তা অগ্রাহ্য করে সিটি করপোরেশনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছেন। এরই মধ্যে তিনি বিভিন্নভাবে মামলাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে মামলা ও তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন।

তবে দুদকের একটি সূত্র জানায়, মামলা দায়েরের পর ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে চার্জশিট জমা দেয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু এ মামলায় এখনো চার্জশিট দেয়া হয়নি।

মামলার সার্বিক বিষয়ে জানতে তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক জেসমিন আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তবে তিনি দুদকের পিআরওর মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের জন্য বলেন। পরে পিআরও আকতারুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত শেষ করেছেন। মামলার অভিযোগপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো. শরফ উদ্দিন চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুদক একটি মামলা করেছে। অর্থ ফেরত চেয়ে সিটি করপোরেশন নজরুল ইসলামকে চিঠি দিলেও টাকা ফেরত দেননি। এজন্য তার খোরপোষের টাকা থেকে সিটি করপোরেশন প্রাপ্য টাকা সমন্বয় করছে। নথি পর্যালোচনা করে তার বিরুদ্ধে আরো কোনো ব্যবস্থা নেয়া যায় কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে।’