বান্দরবানে সরকার ঘোষিত কোনো বালুমহাল নেই। সে অর্থে জেলায় কার্যত নদ-নদী থেকে বালি উত্তোলন নিষিদ্ধ। তার পরও জেলার বিভিন্ন স্থানে সাঙ্গু নদ থেকে অবাধে বালি উত্তোলনের হিড়িক চলছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নিলেও থামানো যাচ্ছে না এ কাজে জড়িত অসাধু ব্যক্তিদের।
অভিযোগ উঠেছে, এ অবৈধ কাজ তারাই করছেন যারা এর আগেও একই কাজের জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতে অর্থদণ্ড দিয়েছেন কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তরের এনফোর্সমেন্ট মামলায় আসামি হয়েছেন। পাহাড়ি নদী থেকে এভাবে বালি উত্তেলন স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
সর্বশেষ সদর উপজেলার রেইচা-গোয়ালিয়াখোলা সড়ক ঘেঁষা রোয়াজাপাড়া সড়ক হয়ে রেইচা খালের মোহনায় সাঙ্গু নদের পাড়ের বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। সরজমিনে এ চিত্র দেখা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রেইচা খালের মোহনায় সাঙ্গু নদের পাড়ের বালি উত্তোলন করছেন রেইচা বাজার এলাকার সরোয়ার জামাল। বালি বিক্রি করছেন স্থানীয় কামাল। বেশ কিছুদিন ধরে ট্রাকে করে বালি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কেরানীহাট-বান্দরবান (কেবি) সড়কের একটি এলাকায়। অভিযুক্তরা বলছেন, সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করেই বালি উত্তোলন করা হচ্ছে।
গত শনিবার সরজমিনে দেখা গেছে, কেবি সড়কের লম্বা রাস্তায় রেশম উন্নয়ন বোর্ড অফিসের কাছে খোলা স্থানে ইটের কঙ্কর-বালি মেশানো একটি স্তূপ রয়েছে। পাশে একটি বুলডোজার ও মিনি এক্সক্যাভেটর রয়েছে। সেখানে কথা হলে ডাম্প ট্রাকচালক বাবুল বণিক বার্তাকে বলেন, রোয়াজাপাড়া এলাকায় সাঙ্গু নদের চর থেকে বালি আনা হচ্ছে। এক গাড়িতে কমবেশি ২০০ ঘনফুট বালি পরিবহন করা হয়। এ কাজে চারটি ডাম্প ট্রাক ও একটি মিনি এক্সক্যাভেটর ব্যবহার করা হচ্ছে। যেগুলোর মালিক কেরানিহাটের বাসিন্দা রুবেল নামে একজন। মালিকের সঙ্গে চুক্তি করে সেগুলো আনেন রেইচা এলাকার সরোয়ার। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চার ট্রাক বালি আনা হয়েছে। সারা দিন একটি ডাম্প ট্রাক ১০ বারের বেশি বালি পরিবহন করে। এ হিসেবে উৎসস্থল থেকে চারটি ডাম্প ট্রাক দিনে কমবেশি আট হাজার ঘনফুট বালি পরিবহন করছে।
এদিকে বালি উত্তোলন স্থলে গিয়ে একটি মিনি এক্সক্যাভেটর দেখা গেছে। রেইচা খালের মোহনা সংলগ্ন সাঙ্গু নদের পাড়ে প্রায় পাঁচ ফুট গভীর করে এক্সক্যাভেটর দিয়ে খোঁড়া হয়েছে। তবে চালককে দেখা যায়নি। এ সময় স্থানীয়রা জানায়, গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সেখানে থেকে ডাম্প ট্রাকে মাটি ভরাটের কাজ করছে এক্সক্যাভেটরটি।
বালি বিক্রেতা মো. কামাল জানান, বালি উত্তোলনের উৎসটি তার বাবার নামে থাকা দ্বিতীয় শ্রেণীর জমি। কত টাকায় বালি বিক্রি করেছেন—এমন প্রশ্নে তিনি নিজেকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পরিচয় দিয়ে বণিক বার্তাকে বলেন, সব কথা কি মোবাইলে বলা যায়। তিনি আরো জানান, উত্তোলন করা বালি রেইচা-গোয়ালিয়াখোলা সড়ক নির্মাণের কাজ পাওয়া ঠিকাদার খোরশেদের কাছে বিক্রি করা হয়। ১০-১৫ দিন ধরে বালি উত্তোলন চলছে বলে জানান তিনি।
বালি উত্তোলনকারী মো. সরোয়ার জামাল জানান, তারা চারজন শেয়ারে বালি সরবরাহের কাজ করছেন। খোরশেদের কাছে বালি বিক্রির বিষয়টি বণিক বার্তার কাছে স্বীকার করে তিনি বলেন, কোনো সমস্যা নেই।’ তবে অন্য তিন অংশীদারের নাম বলেননি।
এ বিষয়ে কথা বলতে একাধিবার কল করা হলেও বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তর সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল করিমের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে ফোনে কথা হলেও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. নুর উদ্দিন। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘অবৈধ বালি উত্তোলন, পাহাড় কাটাসহ প্রভৃতি পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে। গত সপ্তাহেও কালাঘাটাসহ একাধিক স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এছাড়া পরিবেশ আইনেও মামলা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান হীরামনি বণিক বার্তাকে বলেন, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসব বিষয়ে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।










