তিনি দাবি করেছেন, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত। এ ঘটনায় তিনি মামলা করেছেন এবং জড়িতদের বিচার চান। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে না আনলে বিএনপির জন্য পরিণতি ভয়াবহ হবে।’

এর আগে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহর রাত ১২টার দিকে সরাইল উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন রুমিন ফারহানা। এ সময় পুষ্পস্তবক নিয়ে শহীদ বেদির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি ও তার কর্মী-সমর্থকরা। পরে বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে উদ্দেশ করে স্লোগান দিতে থাকেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে রুমিন ফারহানার আনা পুষ্পস্তবকটি ছিঁড়ে ফেলেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে না পেরে শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন তিনি।

এ ঘটনার পর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর প্রথম গেট এলাকা প্রায় ১ ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন রুমিন ফারহানার কর্মী-সমর্থকরা। এ সময় তারা সড়কের ওপর আগুন জ্বালিয়ে এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।

রুমিন ফারহানা অভিযোগ করে বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী আমি প্রথমে শহীদ মিনারে ফুল দিতে গিয়েছিলাম। সে সময় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে। যারা দলের পদ ব্যবহার করে এমন হিংস্রতা করে, তাদের বিষয়ে দলের উচ্চপর্যায় থেকে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। তা না হলে দলের জন্য যেমন ক্ষতি হবে, তেমনি সরকারেরও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে।’

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, ‘শহীদ মিনারে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি এবং স্লোগান দেয়ার বিষয়ে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। ভিডিও ফুটেজ অ্যানালাইসিস করে পুরো বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’