রমজান মাসে মানুষের প্রতি মানুষের যখন আরো বেশি সহানুভূতিশীল হওয়ার কথা, ঠিক তখনই রাজধানীর বাজারগুলোয় চলছে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার উৎসব। কারওয়ান বাজার থেকে শুরু করে রামপুরা, বাড্ডার অলিগলিতে একটি সাধারণ কাগজি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়।
ক’দিন আগেও যেখানে লেবুর মূল্য সহনীয় ছিল, সেখানে রমজানকে কেন্দ্র করে এমন মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণত ক্রেতারা।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা, বাড্ডার বাজারগুলো ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে। গতকাল বুধবারও একই দামে লেবু বিক্রি করতে দেখা গেছে।
রামপুরা কাঁচাবাজার ও বাড্ডার বাজারগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, নিম্ন-আয়ের ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা ইফতারের অনুষঙ্গ হিসেবে একটু লেবু কিনতে এসে দাম শুনে থমকে দাঁড়াচ্ছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন, নয়তো পরিবারের সবার তৃষ্ণা মেটাতে এক হালি লেবুর জায়গায় নিরূপায় হয়ে কিনছেন মাত্র দুটি লেবু।
বাড্ডা বাজারের মধ্যবয়সী দিনমজুর খালেক মিয়ার কণ্ঠে ছিল রাজ্যের হতাশা। তিনি জানালেন, সারাদিন রোদে পুইড়া কাজ করি, রোজা রাখি। ইফতারের সময় গলাটা শুকাইয়া কাঠ হইয়া থাকে। কিন্তু একটা লেবু যদি ৫০ টাকা হয়, তাইলে আমার মতো গরিব মানুষ ক্যামনে কিনব? রমজান মাসে তো মাইনষের একটু দয়া-মায়া থাকা দরকার আছিল। আমরা গরিবরা কি একটু শান্তিতে ইফতারও করতে পারুম না?
রাজধানীর সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজারে গিয়েও দেখা গেল একই চিত্র। সেখানেও লেবুর বাজারে যেন আগুন জ্বলছে। লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৮০ টাকা। পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা বরাবরের মতোই 'সরবরাহ ঘাটতি' আর 'আড়তে মালের দাম বেশি' ‘চাহিদা বেশি’—এমন নানা অজুহাত দাঁড় করাচ্ছেন। কিন্তু সাধারণ ক্রেতাদের প্রশ্ন—রমজান মাস এলেই কেন এ 'ঘাটতি'র অজুহাত নিয়ম করে ফিরে আসে?
কারওয়ান বাজারে বাজার করতে আসা স্কুলশিক্ষক নাজমুল হাসান আক্ষেপ করে বলেন, "বিশ্বের অন্য সব মুসলিম দেশে রমজান এলে নিত্যপণ্যের দাম কমিয়ে দেয়া হয়, যাতে সাধারণ মানুষ শান্তিতে রোজা পালন করতে পারে। আর আমাদের দেশে রোজা এলেই এক শ্রেণির ব্যবসায়ী সাধারণ মানুষের রক্ত চুষে নিতে চায়। একটা লেবুর দাম ৫০ টাকা। এটা ভাবা যায়? দুই দিনের মধ্যে এমন কি ঘটল যে ৪০ টাকি হালির লেবুই এখন ২০০ টাকা হয়ে গেল।










