নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ খানকে (৭০) বাড়িতে ঢুকে গুলি করেছে সন্ত্রাসীরা। গতকাল সকাল সোয়া ৬টার দিকে শিবপুর পৌর এলাকার বাজার সড়কে তার নিজের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বাড়িটি শিবপুর থানার ১০০ মিটার পূর্বদিকে অবস্থিত। গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি।

পরিবারের সদস্যরা বলেন, সকাল সোয়া ৬টার দিকে তিনজন লোক হারুনুর রশিদ খানের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। বাড়িটির দ্বিতীয় তলার কলবেলের শব্দ শুনে হারুন নিজেই গিয়ে দরজা খুলে দেন। ওই সময় তাদের একজন পিস্তল বের করে তার দিকে তাক করেন। তিনি ঘুরে দৌড় দিয়ে নিরাপদ স্থানে যেতে চাইলে তাকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি করা হয়। গুলি তিনটি তার পিঠে বিদ্ধ হয়। এরপর তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তারা পালিয়ে যান। পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালটির চিকিৎসকরা জরুরি চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে আওয়ামী লীগের শত শত নেতাকর্মী শিবপুর থানা ঘেরাও করেন। শহরের বিভিন্ন সড়কে টায়ার ও কাঠে আগুন লাগিয়ে ঘটনার প্রতিবাদ জানান। এছাড়া ঢাকা-মনোহরদী সড়কের শিবপুর কলেজ গেট, শিবপুর বাসস্ট্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি স্থানে সড়কে গাছ ফেলে ব্যারিকেড দেয়া হয়। এতে দূরপাল্লার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শত শত নেতাকর্মী পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়কে ‘হারুন খার কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’ স্লোগান দিয়ে মিছিলে প্রকম্পিত করে তোলে পুরো শিবপুর। 

তার প্রতিবেশী ও শিবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামশুলু আলম ভূঞা রাখিল জানান, ভবনের তিন তলায় পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করেন উপজেলা চেয়ারম্যান। সেকেন্ড ফ্লোরে প্রাইম ব্যাংকের কার্যালয়। প্রধান ফটকে কেঁচি গেট এবং বাড়িটি সিসি ক্যামরার আওতায় রয়েছে। এছাড়া ব্যাংকেরও সিসি ক্যামেরা রয়েছে। থানার অতি কাছে এমন একটি সুরক্ষিত স্থানে সন্ত্রাসীদের প্রবেশ ও গুলিবর্ষণের ফলে আতঙ্ক বিরাজ করছে জেলাজুড়ে।

শিবপুর থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার জানান, মসজিদের জন্য টাকা চাইলে চেয়ারম্যান সাহেব নিজেই কেঁচি গেট খুলে দেন। গেট খোলার সঙ্গে সঙ্গে সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলিগুলো তার পিঠে বিদ্ধ হয়। কারা এ ঘটনায় জড়িত, নানা মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। গুলির কারণ প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। এ ঘটনার তদন্ত চলছে।

উল্লেখ্য, উপজেলা চেয়ারম্যানের হারুন অর রশিদের বড় ভাই সাবেক এমপি রবিউল আওয়াল কিরন খানকেও এরশাদ সরকারের আমলে সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে।