ক্ষুদ্র খাদ্য উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনায় অযথা হয়রানি না করে খাদ্যপণ্যের উৎপাদন, আমদানি ও কাঁচামাল সংগ্রহ পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কার্যক্রম সহজ করা, লাইসেন্স ও মান সনদ গ্রহণের প্রক্রিয়া সমন্বিত করা এবং খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

আজ শনিবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) ‘নিরাপদ খাদ্য ও টেকসই কৃষিজাত পণ্য উৎপাদনে কমপ্লায়েন্স: উদ্যোক্তার করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এএইচএম শফিকুজ্জামান। তিনি বলেন, খাদ্য ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স, বিএসটিআই ও ভোক্তা অধিকারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। এসব প্রক্রিয়া জটিল ও ব্যয়বহুল হলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে। বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে তাদের জন্য সরকারি সুরক্ষা ও সহায়ক পরিবেশ প্রয়োজন।

বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের প্রথম মহাপরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. লিয়াকত আলী বলেন, খাদ্যপণ্য মানহীন হলে এর দায় সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারী বা আমদানিকারককে নিতে হবে। ক্ষুদ্র খাদ্য বিক্রেতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে উৎপাদন ও আমদানি পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। উদ্যোক্তাদের বিএসটিআইয়ের বাধ্যতামূলক পণ্যের তালিকা সম্পর্কে ধারণা রাখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পণ্যের বাংলাদেশ মান অনুসরণের পরামর্শ দেন তিনি। কোনো পণ্যের নির্ধারিত মান না থাকলে প্রয়োজনীয় মানদণ্ড নিজেরাও তৈরি করতে পারেন উদ্যোক্তারা। কাঁচামাল কেনার ক্ষেত্রেও মান ও দাম যাচাই করে নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী বেছে নেয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও এফইএবি ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা হাসান মোহাম্মদ ইফতেখার খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহের বিভিন্ন পর্যায়ে ঝুঁকি চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। কর্মীদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, স্যানিটেশন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং ক্ষতিকর জীবাণু ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিতের পরামর্শ দেন তিনি।

এফইএবি ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার রাজন বলেন, খাদ্যে ভৌত, রাসায়নিক, অণুজীবজনিত ও অ্যালার্জিসংক্রান্ত ঝুঁকি থাকতে পারে। এসব বিষয়ে উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সচেতনতা এবং প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। খাদ্য উৎপাদনপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা ও দক্ষতা বাড়াতে হবে।

বক্তারা আরো বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাঁচামাল সংগ্রহ থেকে উৎপাদন, সংরক্ষণ ও সরবরাহ পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে মান বজায় রাখা জরুরি। এ জন্য উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে হবে।