খুলনা নগরের যশোর রোডে রেলস্টেশনের দেয়ালে কালি দিয়ে বিকৃত করা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি নতুন করে আঁকা হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে শিল্পী মো. রেজাউল করিম রেজা প্রতিকৃতিটি পুনরায় আঁকার কাজ শুরু করেন। সন্ধ্যার দিকে কাজ শেষ হয়।
এর আগে প্রতিকৃতির দুই পাশে লাগানো পোস্টার সরিয়ে ফেলা হয়। রবীন্দ্রনাথের মুখে লেপন করা কালির ওপর সাদা প্লাস্টিক পেইন্টের প্রলেপ দিয়ে মার্কারি স্কেচের মাধ্যমে প্রতিকৃতিটি নতুন করে আঁকা হয়। স্কেচ শেষ হওয়ার পর শুরু হয় রং করার কাজ।
শিল্পী রেজাউল করিম রেজা বলেন, দেয়ালচিত্রটি তার আঁকা ছিল। শিববাড়ী মোড় থেকে সঙ্গীতা হল পর্যন্ত তিনি ও তার দল বিভিন্ন দেয়ালচিত্র এঁকেছিলেন। কে বা কারা রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিটি নষ্ট করেছে, তা তিনি জানেন না। খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক তাকে প্রতিকৃতিটি নতুন করে আঁকার অনুরোধ করায় কাজ শুরু করেছেন।
তিনি আরো বলেন, কাজের সময় যাতে কোনো ঝামেলা না হয়, সে জন্য পুলিশ, বিএনপি ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা নিরাপত্তায় ছিলেন।
দুপুর ১২টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। রবীন্দ্রনাথের দেয়ালচিত্রে কালি লেপন ও তাকে নিয়ে বিরূপ বক্তব্যসংবলিত পোস্টার লাগানোর ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, একটি ছবি মুছে দিয়ে একজন মানুষকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। স্বচ্ছ ও সুন্দর খুলনা গড়ার চেষ্টা করছে কেসিসি।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর উপলক্ষে দেয়ালে নগরের ঐতিহ্য, উন্নয়ন ও দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি আঁকা হয়েছিল। এর মধ্যে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিও ছিল। সেই ছবিতে কালি দেয়ার ঘটনাকে তিনি কবির প্রতি অসম্মান বলে মন্তব্য করেন। এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিকৃতিতে কালি লেপনের ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথাও জানান কেসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, যারা এ কাজ করেছে, তাদের খুঁজে বের করতে পুলিশকে বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর উপলক্ষে যশোর রোডের পাশে রেলস্টেশনের দেয়ালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, ষাটগম্বুজ মসজিদ, পাটশিল্প ও সুন্দরবনের বিভিন্ন চিত্র আঁকা হয়। পাশাপাশি চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান, কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের প্রতিকৃতিও স্থান পায় সেখানে।
এর মধ্যে শুধু রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতির মুখ কালিতে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল। গতকাল শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে। প্রতিকৃতির দুই পাশে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা’ শিরোনামে দুটি পোস্টারও লাগানো হয়েছিল। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংস্কৃতিকর্মীরা।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (খুলনা জোন) শফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনার তদন্ত চলছে।










