ইলিশ সারা বছরই ডিম দেয়। তবে ৮০ শতাংশ ইলিশ ডিম দেয় আশ্বিন মাসে। পূর্ণিমা ও অমাবস্যার সময়ে মা-ইলিশ ডিম ছাড়ার জন্য সাগর ছেড়ে মিঠা পানির নদীতে চলে আসে। প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে প্রতি বছর আশ্বিনের পূর্ণিমা ও অমাবস্যা মাঝে রেখে ২২ দিন সাগর-নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। গতকাল মধ্যরাতে শুরু হওয়া নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে ২৫ অক্টোবর। তবে এ সময় দেশের জলসীমায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে বিধিনিষেধ থাকে না।

জেলেদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার সময় ভারতীয় জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমায় শিকার করেন। এ কারণে নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে প্রত্যাশিত ইলিশ পাওয়া যায় না। তাছাড়া তাদের ট্রলার ও জাল অত্যাধুনিক। সহজেই অধিক পারিমাণ মাছ তারা আহরণ করতে পারে।

সাগর থেকে ফিরে রাফি ট্রলারের মাঝি রতন বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার কথা শুনে যখন ফিরছিলাম, তখনই দেখলাম শত শত ভারতীয় ট্রলার মাছ ধরছে। প্রতি বছর তারা বাংলাদেশের নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। যদি এভাবে তারা মাছ ধরে তাহলে তো আমরা মাছ পাব না। এমনিতেই এ বছর আবহাওয়া খারাপ ছিল, সাগরে মাছ শিকার করতে পারিনি।’

মৎস্য বিভাগের তথ্য বলছে, বরগুনায় নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন ৪৬ হাজার। তবে বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা লক্ষাধিক। এর মধ্যে নিষেধাজ্ঞাকালীন খাদ্যসহায়তা কর্মসূচির আওতায় ৩৬ হাজার জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল দেয়া হয়।

তবে জেলেরা বলছেন, ২৫ কেজি চাল প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। চাল বিতরণেও রয়েছে স্বজনপ্রীতিসহ নানা অভিযোগ। সরকার নামমাত্র ২৫ কেজি চাল সহায়তা দিলেও তা অধিকাংশ জেলে পান না। আবার অনেকে জেলে না হয়েও সহায়তা পান। এ কারণে প্রকৃত জেলেরা বঞ্চিত হন।

এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মহসীন বলেন, ‘বরগুনার বিষখালী, বুড়ীশ্বর ও বলেশ্বর নদীর ৪০টি পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত এসব পয়েন্টে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ মা-ইলিশ ধরলে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নদী ও সাগরে পাহারায় থাকবে। নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটও থাকবেন।’