রংপুরের আঞ্চলিক ও মহাসড়কে গত ১০ মাসে দুর্ঘটনা হয়েছে ৪৪টি। এতে প্রাণ গেছে ৬২ এবং আহত হয়েছেন ১০৯ জন। বেপরোয়া গতি, বিপজ্জনক ওভারটেকিং এবং অতিরিক্ত পণ্যবোঝাইকে এসব দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বলে মনে করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সড়ক বিভাজকের মাধ্যমে গাড়ি চালাচল করলে অনেকাংশেই এসব দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব বলে তারা মতপ্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) রংপুর সার্কেল অফিস সূত্রে জানা গেছে, রংপুর-দিনাজপুর, রংপুর-নীলফামারী, রংপুর-পঞ্চগড়, রংপুর-বগুড়া এবং রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়কসহ জেলার আট উপজেলার আঞ্চলিক সড়কগুলোয় গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত ছোট-বড় ৪৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরো ১০৯ জন। তবে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে।
বিআরটিএ সূত্র মতে, আগস্টে তিন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন তিনজন এবং আহত হয়েছেন পাঁচজন। সেপ্টেম্বরে দুর্ঘটনা ঘটেছে ছয়টি, নিহত হয়েছেন ১৫ ও আহত ৪৫ জন। অক্টোবরে চার সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরো পাঁচজন। নভেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ছয়টি, মারা গেছেন সাতজন ও একজন আহত হয়েছেন। ডিসেম্বরে তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরো দুজন। জানুয়ারিতে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে মোট পাঁচটি, মারা গেছেন সাতজন ও আহত হয়েছেন ১৮ জন। ফেব্রুয়ারিতে পাঁচটি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচজন। মার্চে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে তিনটি, মৃত্যু হয়েছে চারজনের ও আহত হয়েছেন ২৬ জন। এপ্রিলে আট দুর্ঘটনায় মারা গেছে নয়জন ও আহত হয়েছে পাঁচজন। চলতি মাসের ১৮ তারিখ পর্যন্ত হওয়া একটি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন একজন এবং দুজন আহত হয়েছেন।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সমাজ পরিবর্তন ও উন্নয়ন ফোরাম রংপুরের সাধারণ সম্পাদক মো. সহিদুল ইসলাম বাবলু বলেন, ‘মহাসড়কে পাল্লা দিয়ে ভারী যানবহনের চালকদের গাড়ি চালানো এবং বিপজ্জনক ওভারটেকিংয়ের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি অবৈধ যানবাহন এবং মোটরসাইকেলের কারণে মহাসড়কে দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে চলাচলকারী পথচারী এবং যাত্রীদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং আইন না মানার কারণেও দুর্ঘটনা ঘটছে।’
এদিকে সড়কে দুর্ঘটনা রোধে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিআরটিএ রংপুর সার্কেল অফিস। প্রতি মাসেই ১০০ থেকে ১৫০ চালককে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেয়া হয় বলেও দাবি করেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে সড়কে যাতে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল করতে না পারে এ জন্য কমপক্ষে একটি বিশেষসহ পাঁচটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে প্রতি মাসে। এছাড়া বাস টার্মিনাল, ট্রাকস্ট্যান্ড, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা এবং জনসমাগমপূর্ণ মোড়গুলোয় সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, মোটরসাইকেল আরোহী ও পথচারীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলার জন্য নিয়মিত আহ্বান জানানো হচ্ছে মাইকিং করে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় গিয়ে শিক্ষার্থীদের ট্রাফিক আইনবিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে জানানো হয়।
এত কিছুর পরও সড়কে দুর্ঘটনা ঘটার জন্য মূলত ওভার স্পিডে গাড়ি চালানো, বিপজ্জনক ওভারটেকিং ও যানবহনে ওভার লোডিংকে দায়ী করেছেন বিআরটিএ রংপুর সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) মো. ফারুক আলম। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, মহাসড়কে অবৈধ যানবহনের অবাধ বিচরণ, সখেরবশে অনভিজ্ঞ চালকের মোটরসাইকেল চালানো এবং সড়কে চলাচলকারীদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞতার জন্য দুর্ঘটনা ঘটছে। যে সড়কগুলোয় ওয়ানওয়ে বা বিভাজন নেই, সেগুলোয় বিপরীতমুখী যানবহনের সঙ্গে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। তাই সড়কগুলোয় ওয়ানওয়ে ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে ৯৮ ভাগ দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব।’










