যশোরে কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিতে এড়লের বিলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। জেলার সর্ববৃহৎ এ বিলের তিন হাজার বিঘা জমি পানির নিচে রয়েছে। জুন-জুলাই রোপা আমন ধান রোপণের উপযুক্ত সময় হলেও জলাবদ্ধতার কারণে আবাদ করতে পারেননি কৃষক। চলতি মৌসুমে আবাদ হবে কিনা তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন চাষীরা। এছাড়া অর্ধশত মাছের ঘের ভেসে গেছে।
চাষীরা বলছেন, চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ও ফুলসারা ইউনিয়নের বিলের পানি সদর উপজেলার চান্দুটিয়ার বুকভরা বাঁওড়ের স্লুইস গেট দিয়ে অল্প পরিমাণে নিষ্কাশন হয়। পানি নিষ্কাশনের জন্য বড় খাল কাটা হলেও ছোট স্লুইস গেট দিয়ে সেই পরিমাণে নিষ্কাশন হচ্ছে না। এ অবস্থায় এবার আমন আবাদ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা। জলাবদ্ধতা নিরসন ও স্লুইস গেট তুলে দিয়ে সেখানে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডে (পাউবো) আবেদন করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৪০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে জলাবদ্ধতার কারণে এখন পর্যন্ত ৮৬ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। এড়লের বিলে তিন হাজার বিঘা জমিতে জলাবদ্ধতা রয়েছে। এ কারণে সেখানে আমন আবাদ এখনো হয়নি।
ফুলসারা গ্রামের মতিয়ার রহমান জানান, বিলে জলাবদ্ধতার কারণে গত বছর ইরি ও আমন ধান ঠিকমতো ঘরে ওঠানো যায়নি। এবারো নিচু জায়গার ইরি ধান পানিতে তলিয়ে ছিল। এর মধ্যে শিলাবৃষ্টিতেও ধান নষ্ট হয়েছিল। আমন মৌসুমেও কৃষকদের জমি এখনো পানির নিচে রয়েছে। অধিকাংশ বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। ধান চাষ করা ভাগ্যে জুটবে বলে মনে হয় না।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জি জানান, বুকভরা বাঁওড়ের স্লুইস গেট দিয়ে এড়লের বিলের বড় একটা অংশের পানি নিষ্কাশন হয়। পানির চাপ বেশি থাকায় নিষ্কাশনে একটু সময় লাগছে। কপোতাক্ষ নদেও পানির চাপ রয়েছে। ফলে বাঁওড়ের পানি নদে কম যাচ্ছে।
স্লুইস গেট তুলে সেতু নির্মাণের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কৃষকদের দাবি অযৌক্তিক বলতে পারি না। তবে স্লুইস গেট তুলে দিলে পানির ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। আগামীতে নদ বা বাঁওড় থেকে পানি বিলের ভেতর ঢোকানোর প্রয়োজন হলে তখন কী অবস্থা হবে সেটাও ভাবতে হচ্ছে।’










