দেশে টানা পাঁচ বছর ধরে বাড়ছে দারিদ্র্যের হার। এর মধ্যে গত এক বছরেই নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে প্রায় ২১ লাখ মানুষ। অর্থনৈতিক মন্দা, শিল্পায়নের গতি কমে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়াকেই দারিদ্র্য বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্বব্যাংক।

‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট: মেক সাবসিডিজ অ্যান্ড সোশ্যাল প্রটেকশন ওয়ার্ক বেটার ফর দ্য পুওর’ শীর্ষক বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে দেশে দারিদ্র্যের হার ১ দশমিক ১ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়ে ২২ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে দারিদ্র্য ও আয়বৈষম্য। কর্মসংস্থান হারানোর দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন নারীরা।

বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির গতি কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে দুর্বল হয়ে পড়ছে বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি। শিল্প খাতে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট উৎপাদন ব্যাহত করছে। অন্যদিকে ব্যাংক খাতে বাড়ছে খেলাপি ঋণ ও মূলধন ঘাটতি। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতাও কমছে। এসব সংকটের সম্মিলিত প্রভাব পড়ছে নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কমে যাওয়ায় বিশেষ করে নারীরা শ্রমবাজারে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ ও আয় কমে যাওয়ায় অনেক পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। একই সময়ে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং সারসহ বিভিন্ন খাতে সরকার বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে। তবে এসব ভর্তুকি ও সহায়তার উল্লেখযোগ্য অংশ দরিদ্র মানুষের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছাচ্ছে না বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির মতে, অনেক তুলনামূলক সচ্ছল পরিবার সরকারি সুবিধা পাচ্ছে, অথচ সবচেয়ে দরিদ্র ও ঝুঁকিতে থাকা বহু পরিবার সামাজিক সুরক্ষার আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সংস্কারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সুশাসন জোরদার এবং কর-রাজস্ব বাড়ানো। পাশাপাশি সাধারণ ভর্তুকি ধীরে ধীরে কমিয়ে তার পরিবর্তে দারিদ্র্য ও ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণ বলছে, শুধু সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাড়িয়ে দারিদ্র্য পরিস্থিতির টেকসই উন্নতি সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়ানো, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি এবং শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি। একই সঙ্গে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর সংকট কাটিয়ে প্রবৃদ্ধির গতি ফিরিয়ে আনাও জরুরি।

দারিদ্র্য বৃদ্ধির সাম্প্রতিক প্রবণতা তাই বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় সতর্কসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে মূল্যস্ফীতিতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে শিল্প খাতের জ্বালানি সংকট, দুর্বল বিনিয়োগ এবং আর্থিক খাতের চাপ। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল মানুষের কাছে পৌঁছানোর বদলে উল্টো একটি বড় জনগোষ্ঠী নতুন করে দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়ছে।

সংস্থাটির তথ্যমতে, ২০২৫ সালের তুলনায় চলতি বছর দেশে দারিদ্র্যের হার ১ দশমিক ১ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়ে ২২ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। গত বছর এ হার ছিল ২১ দশমিক ৪ শতাংশ। এর আগে ২০২৪ সালে ২০ দশমিক ৫, ২০২৩ সালে ১৯ দশমিক ২ এবং ২০২২ সালে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল। অর্থাৎ কভিড-১৯-পরবর্তী সময় থেকে টানা পাঁচ বছর ধরে দেশে দারিদ্র্যের হার বাড়ছে।

দারিদ্র্যের হার নিয়ে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে পার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত খানা আয়-ব্যয় জরিপে দারিদ্র্যের হার ১৯ দশমিক ২ শতাংশ দেখানো হয়েছিল। অন্যদিকে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) হিসাবে গত বছর এ হার ছিল ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ। পদ্ধতি ও সময়কালভেদে পরিসংখ্যানে এ পার্থক্য থাকলেও সবক’টি হিসাবেই একটি অভিন্ন প্রবণতা স্পষ্ট—দেশে দারিদ্র্য কমার বদলে বাড়ছে।

বিশ্বব্যাংকের মডেলভিত্তিক হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দৈনিক ৩ ডলারের আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমায় দারিদ্র্যের হার বেড়ে ১০ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সংস্থাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক শ্লথগতির কারণে শ্রমের চাহিদা কমেছে। একই সময়ে অব্যাহত মূল্যস্ফীতি পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার মানে চাপ তৈরি করেছে। জ্বালানি সংকটে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের সময় কমেছে, কিছু কারখানা বন্ধ হয়েছে এবং কোথাও শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে। বাজারে চাহিদা দুর্বল থাকায় বিশেষ করে শিল্প খাতে কমেছে নতুন নিয়োগও।

অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা বলছেন, কয়েক বছর ধরে চলা উচ্চ মূল্যস্ফীতিই নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি করেছে। এর সঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থানের পর অর্থনৈতিক স্থবিরতা, বিনিয়োগ কমে যাওয়া এবং শিল্প খাতে সংকট যুক্ত হওয়ায় কর্মসংস্থানও কমেছে। ফলে যারা চাকরি হারিয়েছেন, তাদের একটি অংশ কাজ খুঁজে পেলেও অনেকেই প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবে শ্রমবাজারে ফিরতে পারেননি। আয় হারিয়ে এসব পরিবার ধীরে ধীরে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শিল্প খাত যখন গত কয়েক বছর ধরেই সংকটের মধ্যে আছে, তখন মূল্যস্ফীতি বেশি, কর্মসংস্থান কম এবং মজুরি বৃদ্ধির হারও মূল্যস্ফীতির পেছনে পড়ে আছে। কয়েক বছর ধরে এমন একটি পরিস্থিতি চলছে, যেখানে প্রবৃদ্ধির তুলনায় মূল্যস্ফীতি বেশি। সুতরাং যে দারিদ্র্য বৃদ্ধির অনুমান বিশ্বব্যাংক দিয়েছে, সেটি অনুমান হলেও যৌক্তিক।’

ড. জাহিদ হোসেনের মতে, স্থায়ী ও বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং ব্যবসার সঠিক পরিবেশ তৈরি ছাড়া প্রবৃদ্ধির উন্নয়ন সম্ভব নয়। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধান করতে হবে।

df

দারিদ্র্য বৃদ্ধির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কর্মসংস্থানের। অথচ দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রধান ক্ষেত্র শিল্প খাতই কয়েক বছর ধরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। বিবিএসের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে মোট কর্মসংস্থানে শিল্পের অংশ ২০ দশমিক ৪২ থেকে কমে ১৭ দশমিক ৩৬ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে সেবা খাতেও কর্মসংস্থানের অংশ কমেছে। বিপরীতে কর্মসংস্থান বেড়েছে কৃষিতে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২ শতাংশ। গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে অনেক কারখানা সক্ষমতার নিচে উৎপাদন করেছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান কর্মঘণ্টা কমিয়েছে, উৎপাদন বন্ধ রেখেছে কিংবা কর্মী ছাঁটাই করেছে।

বাংলাদেশের শিল্প খাতের বড় অংশই তৈরি পোশাকনির্ভর। এ খাতে কর্মরত শ্রমিকদের প্রায় ৫৩ শতাংশ নারী। কিন্তু উচ্চ ব্যয় ও ক্রয়াদেশ সংকটের কারণে গত তিন বছরে প্রায় ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিএমইএ। শিল্প ও সেবা খাতে কাজ হারানো নারীদের একটি অংশ শ্রমবাজার থেকেই বেরিয়ে গেছেন।

নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার ২০২২ সালের ৪২ দশমিক ৮ থেকে কমে ২০২৪ সালে নেমেছে ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশে। ২০২৫ সালের পর নতুন শ্রমশক্তি জরিপ না থাকায় বর্তমান পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। তবে বিশ্বব্যাংকের ডেভেলপমেন্ট আপডেটে বলা হয়েছে, দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাওয়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান হারিয়েছেন নারীরা।

নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ অনেক ক্ষেত্রেই সংকুচিত বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রুমানা হক। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘এমনিতে নারীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ খুব বেশি নেই। অনেক খাতেই নারীরা অংশগ্রহণ করতে পারেন না। যেসব সীমিত খাতে তারা কাজ করেন, সেগুলোর অনেকগুলোই অনানুষ্ঠানিক বা আধা-আনুষ্ঠানিক। সে জায়গা নারীদের কর্মসংস্থান হারানো খুবই আশঙ্কাজনক।’

এ অর্থনীতিবিদ আরো বলেন, ‘কর্মজীবী নারীদের একটি বড় অংশ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা। যখন সে নারী চাকরি হারাবে, তখন সেখানে দারিদ্র্য তৈরি হবে। কেন দরিদ্রতা তৈরি হচ্ছে, কেন মানুষ কাজ পাচ্ছে না—এসব কারণ সরকারকে খুঁজে বের করতে হবে।’

দারিদ্র্য বাড়ার পাশাপাশি দেশে আয়বৈষম্যও গভীর হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গিনি ইনডেক্স দশমিক ৯ পয়েন্ট বেড়ে ৩৪ দশমিক ৯-এ দাঁড়াতে পারে। ২০২২ সালের তুলনায় এটি প্রায় ৪ পয়েন্ট বেশি। অর্থাৎ শুধু দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়ছে না, আয় বণ্টনের বৈষম্যও বাড়ছে।

এ পরিস্থিতিতে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির হিসাবে, দরিদ্র পরিবারের মাত্র ৫৪ দশমিক ৪ শতাংশ সরাসরি সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা পায়। তাদের বার্ষিক গড় সুবিধার পরিমাণ ৭ হাজার ১৪০ টাকা। বিপরীতে ৩১ শতাংশ ধনী পরিবারও এসব সুবিধার আওতায় রয়েছে এবং তাদের বার্ষিক গড় সুবিধার পরিমাণ ১০ হাজার ৪৭২ টাকা।

প্রধান দারিদ্র্যবান্ধব কর্মসূচি থেকেও ৬১ শতাংশ দরিদ্র মানুষ পুরোপুরি বঞ্চিত রয়েছে। বর্তমান ব্যবস্থায় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্য কমানোর হার মাত্র ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট, যা অন্যান্য নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের তুলনায় কম।

বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, খাদ্য ভর্তুকি, ফ্যামিলি কার্ডের মতো লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসূচি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দারিদ্র্য কমানো সম্ভব। একাধিক খাদ্য ভর্তুকি কর্মসূচি একত্রিত করা, নগদ সহায়তা কর্মসূচিতে সুবিধাভোগী নির্বাচন আরো কার্যকর করা এবং এসব কর্মসূচির সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড যুক্ত করা গেলে অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনা সম্ভব হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সরকারের ‘ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে সংস্থাটি।

দারিদ্র্য বৃদ্ধির পেছনে অর্থনীতির সামগ্রিক দুর্বলতাও বড় ভূমিকা রাখছে। বিশ্বব্যাংক চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে আসার পূর্বাভাস দিয়েছে। এর অন্যতম কারণ বিনিয়োগের সংকোচন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেসরকারি বিনিয়োগ দশমিক ৫ শতাংশ এবং সরকারি বিনিয়োগ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে পণ্য ও সেবার প্রকৃত রফতানি কমেছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংকের মতে, দীর্ঘস্থায়ী কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মধ্যে রয়েছে জ্বালানি খাতের গভীর সংকট, আর্থিক খাতের দুর্বলতা এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণে দুর্বলতা। এর সঙ্গে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তাও বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর চাপ তৈরি করছে।

ব্যাংক খাতের ঝুঁকিও বাড়ছে। খেলাপি ঋণের অনুপাত ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের জুনে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে রাজস্ব আহরণ জিডিপির মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০২৬ অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি জিডিপির ৩ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৫ অর্থবছরে ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

অন্যদিকে চলতি বছর শেষে গড় মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৭ শতাংশ থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য, সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যা এবং মুদ্রা সরবরাহের প্রবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতি কমার পথে বাধা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যাঁ পেম বলেন, ‘অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে এবং বেসরকারি বিনিয়োগনির্ভর অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে ব্যাংক খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ এবং জ্বালানি খাতে দ্রুত ও সাহসী সংস্কার প্রয়োজন। দরিদ্র মানুষকে সুরক্ষা দেয়া এবং আরো বেশি ও ভালো কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। এখনই সে পদক্ষেপ নেয়ার সময়।’

বিশ্বব্যাংক অবশ্য বলছে, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি এবং সরকারের সংস্কার কার্যক্রম ত্বরান্বিত হলে ২০২৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উন্নতিও অর্থনীতিকে কিছুটা সহায়তা করছে।

এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যালয়ে গতকাল সংস্থাটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে তিনি কেবল বলেন, ‘ওয়েট অ্যান্ড সি।’