সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় পণ্যবাহী ট্রেনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার প্রায় সাড়ে ৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রাত ৮টা ২০ মিনিটে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গ ও খুলনার রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়। এরপর অপেক্ষারত ট্রেনগুলো ছাড়তে শুরু করে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রিলিফ ট্রেন আসার পর ৪২ মিনিটের চেষ্টায় রাত ৮টা ১২ মিনিটে লাইনচ্যুত বগি দুটির উদ্ধার কাজ শেষ হয়।
এর আগে গতকাল বেলা পৌনে ২টার দিকে উল্লাপাড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় পণ্যবাহী একটি ট্রেন আসার পর কিছু পণ্য খালাস করা হয়। লাইন পরিবর্তন করার সময় স্টেশনের পশ্চিমে ৩ নম্বর লাইনের ওপর দুটি বগি লাইনচ্যুত হয় । ঘটনার পর থেকে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গ ও খুলনার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয়ে পড়ে পশ্চিমাঞ্চল রেল। ঢাকাগামী উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের সাতটি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়ে। ভোগান্তিতে পড়ে এসব ট্রেনের যাত্রীরা। বিষয়টি তদন্তে চার সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ।
পশ্চিমাঞ্চল রেল সূত্র জানায়, সিরাজগঞ্জে ট্রেনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় ঢাকাগামী মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা ধরে সিরাজগঞ্জের লাহিড়ী মোহনপুর স্টেশনে ছিল। চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেন পাবনার চাটমোহর স্টেশনে, একতা এক্সপ্রেস ট্রেন সিরাজগঞ্জের জামতৈল স্টেশনে, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেন পাবনার ভাঙ্গুড়া স্টেশনে, বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেন ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে, পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেন আব্দুলপুর স্টেশনে ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেন নাটোর স্টেশনে অপেক্ষমাণ ছিল।
উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ বীরবল মণ্ডল বলেন, ‘সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রিলিফ ট্রেনটি উল্লাপাড়া স্টেশনে এসে পৌঁছায়। এরপর ৪২ মিনিটের চেষ্টায় রাত ৮টা ১২ মিনিটে লাইনচ্যুত বগি দুটি উদ্ধার করা হয়। বগি দুটি উদ্ধারের পর পাশে সরিয়ে রেখে দ্রুত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। পরে উভয় পাশে অপেক্ষায় থাকা ট্রেনগুলো একে একে গন্তব্যের উদ্দেশে চলে যায়।
পশ্চিমাঞ্চল রেল বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) অসিম কুমার তালুকদার বলেন, ‘বিভাগীয় পর্যায় থেকে বিষয়টি তদন্তে পরিবহন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনকে প্রধান করে চার সদস্যবিশিষ্ট কমিটি করে দেয়া হয়েছে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে কারণ অনুসন্ধান করে রিপোর্ট দেবেন। কেউ দোষী হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’










