ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ফেনীতে একটি বালুভর্তি ট্রাকে রেলের ধাক্কায় ৬ জন নিহত হয়েছে। শুক্রবার (৫ এপ্রিল) সকাল ৮টা ২০ মিনিটের দিকে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার মুহুরীগঞ্জ ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
নিহতরা হচ্ছেন ট্রাক চালক মিজানুর রহমান (৩২)। তিনি বরিশালের উজিরপুর
ইউনিয়নের কাউয়ারাহা গ্রামের আবুল হাওলাদারের ছেলে। এছাড়াও ট্রেনের যাত্রী কুমিল্লার
লাকসাম উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের আবুল খায়ের (৪০) ও তার ছেলে আশিক (১৪)। কুমিল্লার
চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের শাকতলা গ্রামের রুহুল আমীনের ছেলে রিফাত (১৬), মো.
ইয়াছিনের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন ও নুর আহাম্মদের ছেলে দ্বীন মোহাম্মদ (২২)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মেইল
ট্রেনটি সকাল ৮টা ২০ মিনিটের দিকে ফেনীর মুহুরীগঞ্জ ব্রিজ সংলগ্ন রেলক্রসিং পার হওয়ার
সময় একটি বালু ভর্তি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে ট্রাকটি রেল লাইন থেকে সটকে পড়ে।
তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে আহতদের ফেনী জেনারেল হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সময় রেলক্রসিংয়ের গেটম্যান সাইফুল অনুপস্থিত ছিলেন। যে কারণে রেল এলেও ক্রসিংয়ে প্রতিবন্ধক না থাকাতে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
ফেনীস্থ জিআরপি পুলিশের এএসআই শাহ আলম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মিজান ও আবুল খায়েরকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অপর দিকে ঘটনাস্থল থেকে অপর আহত ব্যক্তি আশিককে (১৪) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে শুনেছি। নিহতদের মাঝে মিজান ট্রাকের চালক এবং খায়ের ও আশিক বাবা-ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তারা দুজন রেলের যাত্রী এবং রেলের সম্মুখভাগে ছিলেন।
এদিকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু তাহের বলেন, শুক্রবার সকালে সাততলা গ্রামের ১১ কিশোর ঈদের শপিংয়ের জন্য চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ট্রেনে ওঠে। তারা ট্রেনের সামনের খালি জায়গায় গল্প করতে করতে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে মহুরীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় পতিত হয়। ওই ঘটনায় ৩ জন মারা যায়। নিহতরা হচ্ছেন শাকতলা গ্রামের মৃত নুর হোসেনের ছেলে দ্বীন মোহাম্মদ (২২), একই গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে রিফাত (১৭) ও ইয়াছিনের ছেলে মো. সাজ্জাদ হোসেন (১৭)। শুক্রবার বিকালে একই কবরস্থানে পাশাপাশি কবরে জানাজা শেষে তাদেরকে সমাহিত করা হয়।
নিহতদের অপরবন্ধু কেফায়েত উল্যাহ বলেন, ঈদের কেনাকাটার জন্য চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য সেহরি খাওয়ার পর আমরা সবাই হাসানপুর স্টেশনে একত্রিত হই। শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটায় ট্রেনে উঠে আমরা ১১ জন চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। ফেনী স্টেশনে যাওয়ার পর আমরা সবাই ট্রেনের সিটে বসে পড়ি। স্টেশন ছাড়ার পর দ্বীন মোহাম্মদ, রিফাত ও সাজ্জাদ ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনে গিয়ে বসে। ফেনীর ফাজিলপুর পার হওয়ার পর একটি বালুর ট্রাকের সঙ্গে আমাদের ট্রেনের ধাক্কা লাগে। এতে আমাদের তিন বন্ধুসহ কয়েকজন নিহত হয়েছে। পরে ট্রেনটি একটু সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলে আমরা নেমে পড়ি এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় একটি মাইক্রোবাসে করে তিন বন্ধুর লাশ বাড়িতে নিয়ে আসি।
ফেনীর পুলিশ সুপার জাকির হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাকের সঙ্গে ট্রেনের ধাক্কায় প্রথমে দুজন ও পরে আরো একজন মারা গেছে বলে জেনেছি। সন্ধ্যায় চৌদ্দগ্রাম এলাকার আরো ৩ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। ঘটনার সময় দায়িত্বরত গেটম্যান অনুপস্থিত ছিলেন বলে রেল পুলিশ থেকে জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।










