শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল ও সারুলিয়া—এ চারটি ইউনিয়ন ২০১৭ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতায় এলেও এসব এলাকার নাগরিক জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তনের ছোঁয়া এখনো লাগেনি। আগে থেকেই এসব এলাকার সমস্যার নাম ছিল জলাবদ্ধতা। মেগা সিটির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার চার বছর পেরিয়ে গেলেও এ সমস্যা থেকে মুক্তি মিলছে না। ২০১৭ সালে ৬৩৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকাগুলোর জলাবদ্ধতা নিরসনে অবকাঠামো নির্মাণসহ রাস্তা উঁচু করে ডিএসসিসি। এলাকাবাসী বলছে, ওই প্রকল্পের ফলে জলাবদ্ধতা এখন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। রাস্তা উঁচু করার ফলে বৃষ্টি হলেই ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ডুবে যায়। কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা থাকে সারা বছরই।
ঢাকা দক্ষিণ সিটির নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, ৫৮ থেকে ৬৮ নং পর্যন্ত ১১টি ওয়ার্ডের অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে একটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে ২০১৯ সালের জুনে শেষ হয়। প্রকল্পটির নাম ছিল ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন নবসংযুক্ত শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল ও সারুলিয়া এলাকার সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প’।
৬৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ১৫৬ দশমিক ৬৮১ কিলোমিটার রাস্তা, ১৫৭ দশমিক ২৫১ কিলোমিটার নর্দমা, ৮ দশমিক ৮০৬ কিলোমিটার ফুটপাত ও ৮ হাজার চারটি সড়কবাতি স্থাপন করা হয়। কিন্তু বসতবাড়ি থেকে রাস্তা বেশ উঁচু হয়ে যাওয়াই কাল হলো। এখন ওইসব এলাকায় জলাবদ্ধতা নিত্য সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে।
বৃষ্টি হলেই পানি ঘরে ঢুকে পড়া এখানকার সাধারণ চিত্র। একটু বৃষ্টিতেই মাতুয়াইল মেডিকেল, সারুলিয়া, ডেমরা, বাঘমারা, শনির আখড়ার বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে। এসব ওয়ার্ডে এখনো পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সঙ্গে পয়োনিষ্কাশনের পানিও এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। গত বর্ষা মৌসুমে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার পানি এখনো নামেনি রাস্তাঘাট ও বাসাবাড়ি থেকে।
মাতুয়াইলের বেশ কয়েকটি বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আঙিনায় পানি জমে আছে। মুরাদপুর, জুরাইন, নামা শ্যামপুরসহ এসব এলাকার প্রতিটি ঘরেই ইট দিয়ে আসবাব উঁচু করা হয়েছে। বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতর পানি ঢুকে যায়, তখন রান্না করতেও ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকটও সবসময় লেগে থাকে।
৬৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. শফিকুল ইসলাম খান বণিক বার্তাকে বলেন, আমার ওয়ার্ডসহ ৬২, ৬৪, ৬৫ ও ৬৬ নং ওয়ার্ডে বছরের সবসময় জলাবদ্ধতা লেগেই থাকে।
এ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেল) মো. বোরহান উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ওই প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে এলাকায় সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থাও গড়ে উঠেছে। ওইসব এলাকায় আগে বছরের সবসময় পানি থাকত। এখন কিন্তু সে রকম হচ্ছে না। আমরা ড্রেনেজ করেছি ঠিক, কিন্তু খাল পরিষ্কার না করলে পানি নামবে কীভাবে। সব এলাকায় সড়ক ও ড্রেনেজ নির্মাণ সম্পন্ন হলে আশা করা যায় স্থায়ী সমাধান হবে।
ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ বণিক বার্তাকে বলেন, এসব ওয়ার্ডের জলাবদ্ধতা নিরসন সিটি করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে সম্ভব নয়। আমরা তাই মেগা প্রজেক্ট নিয়েছি। সেটি পাস হলে আশা করছি জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধান হবে।










