দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অতীত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, অনেক রাজনৈতিক কর্মী ও পরিবার দীর্ঘ সময় ধরে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৪২ দিনে দেশে কোনো ক্রসফায়ার বা গুমের ঘটনা ঘটেনি। খবর বাসস।
তিনি আজ সংসদে 'জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬ উত্থাপনকালে কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপি'র সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ'র আপত্তির জবাবে এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, 'সরকার চাইলে প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে পারত, কিন্তু আমরা সেই পথে হাঁটিনি। আমরা চাই না আর কোনো মা তার সন্তানকে ক্রসফায়ারের নামে হারান কিংবা গুমের শিকার হন।'
তিনি বলেন, দেশে মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ক্রসফায়ার ও গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে কার্যকর অবস্থান নিয়েছে।
তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫ নিয়ে আরো বিস্তারিত পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা প্রয়োজন হওয়ায় আপাতত ২০০৯ সালের মানবাধিকার কমিশন আইন পুনর্বহাল করা হয়েছে, যাতে দেশে মানবাধিকার কমিশনের কার্যক্রমে কোনো শূন্যতা না থাকে।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে ২০২৫ সালের অধ্যাদেশের বিভিন্ন ত্রুটি তুলে ধরে বলেন, এতে তদন্ত প্রক্রিয়া, সময়সীমা, জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই। ফলে ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ জটিল হয়ে পড়তে পারে। এমনকি কমিশন নিজেই তদন্ত শেষে কোনো পক্ষের হয়ে মামলা করতে পারবে—যা নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তোলে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, 'যেকোনো আইন যদি গোপন উদ্দেশ্য বা পক্ষপাতমূলকভাবে প্রণয়ন করা হয়, তবে তা আইনের দৃষ্টিতে শুরু থেকেই বাতিলযোগ্য। তাই একটি কার্যকর ও নিরপেক্ষ মানবাধিকার আইন প্রণয়নে গভীর যাচাই-বাছাই অপরিহার্য।'
গুম প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্য অপরাধগুলোর একটি এবং এ বিষয়ে এরই মধ্যে কঠোর আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে ২০২৫ সালের অধ্যাদেশে ‘গুম কমিশন’ সংক্রান্ত সংজ্ঞা ও দায়িত্ব নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে, যা বিদ্যমান আইনের কার্যকারিতা ব্যাহত করতে পারে।
তিনি আরো বলেন, একটি আইন সাধারণত দীর্ঘমেয়াদে—প্রায় ২০ বছর—কার্যকর থাকবে ধরে নিয়েই প্রণয়ন করা হয়। তাই তড়িঘড়ি করে কোনো ত্রুটিপূর্ণ আইন পাস না করে, সব পক্ষের মতামত নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ও সময়োপযোগী আইন প্রণয়ন জরুরি।
তিনি সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সকলের সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য মানবাধিকার আইন পাস করা প্রয়োজন, যা দেশের মানুষের অধিকার রক্ষায় বাস্তব ভূমিকা রাখবে।










