বহুবিধ ব্যবহারের কারণে দেশে দিন দিন বাড়ছে ভুট্টার চাহিদা, বাড়ছে আবাদ। ভুট্টা চাষে খরচ যেমন কম, অন্যদিকে ফলন ও লাভও বেশি। অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক ফসল হওয়ায় কৃষকরাও ঝুঁকছেন এ ফসল আবাদে। তবে চলতি মৌসুমে ভুট্টা গাছে দেখা দিয়েছে ‘ফল আর্মিওয়ার্ম’
নামে ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ। কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না এ পোকার প্রাদুর্ভাব। এ কারণে এখন অনেকটাই দিশেহারা কৃষকরা।
দিনাজপুর সদর উপজেলার রানীগঞ্জ এলাকার ভুট্টাচাষী জমির উদ্দিন জানান, ফল আর্মিওয়ার্ম পোকার উৎপাতে অতিষ্ঠ তিনি। ভুট্টা ক্ষেতে কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোনো প্রকার সুফল পাননি। অনেক টাকা-পয়সা খরচ করে ভুট্টা চাষ করেছি। কিন্তু কীটনাশক প্রয়োগ করেও এ পোকা দমন করতে পারছি না। ভুট্টার চারায় নতুন যে কুশিগুলো বের হচ্ছে তার প্রায় সবই এ পোকা কেটে ফেলছে। এভাবে গাছের আগা খেয়ে ফেলার পর শুকিয়ে যাচ্ছে গাছ। পোকার উপদ্রব চলতে থাকলে আর লাভের মুখ দেখতে পাব না।
পোকার উৎপাতে ভুক্তভোগী একই এলাকার আরেক কৃষক আফসার আলী বলেন, আমি অনেক আগ থেকে ভুট্টার চাষ করি। তবে ২০১৮ সাল থেকে ভুট্টা ক্ষেতে আর্মিওয়ার্ম নামে এক ধরনের পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এ পোকার আক্রমণে আগে প্রতি বিঘায় পেতাম ৬০-৭০ মণ, এখন পাই ২৫-৩০ মণ ফলন।
কৃষক সুবল কুমার বসাক বলেন, দুই বছর ধরে এ পোকার জন্য ভুট্টা চাষে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। আগে তুলনায় ফসল উৎপাদনের পরিমাণ অনেক কমে গেছে। এ পোকা প্রথমে পাতাগুলো ছিদ্র করে দিচ্ছে। ফলে গাছ পরিপুষ্ট হওয়ার পথে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। এরপর গাছের নতুন যে কুশিটি বের হচ্ছে তা কেটে ফেলছে। সেই সঙ্গে ভুট্টা যখন বের হচ্ছে, কচি ভুট্টার রসটা খেয়ে ফেলছে।
ভুট্টার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক এ পোকার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে মাঠে নেমেছেন বিজ্ঞানী, গবেষক ও কৃষি কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. এছরাইল হোসেন বলেন, ভুট্টা বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় ফসল, কৃষকদের জন্য এক প্রকারের আশীর্বাদ। ‘বর্তমানে ভুট্টা ক্ষেতে ফল আর্মিওয়ার্ম নামে এক ধরনের পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে, যা কৃষকদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পোকা দমনের প্রতিষেধক নিয়ে আমরা বর্তমানে কাজ করছি। বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ে প্রটিঞ্জা নামে এক ধরনের প্রতিষেধক উন্মুক্ত করেছি। আমরা সর্বস্তরে এ পোকা দমনের কাজ করে যাচ্ছি। যাতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ধানের মতো এ ভুট্টাতেও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারি। সেই সঙ্গে প্রত্যাশা করি কৃষকদের একটি সমন্বিত পোকা দমন ব্যবস্থা উপহার দেয়ার।’










