সুনামগঞ্জের শাল্লায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলায় ভাংচুরের ঘটনায় একটি মামলার প্রধান আসামি ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম ওরফে স্বাধীন মেম্বারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সিলেট।
গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টায় আত্মগোপনে থাকা স্বাধীন মেম্বারকে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ খালেদ উজ জামান। গ্রেফতারকৃত স্বাধীন মেম্বার দিরাই উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুল হককে নিয়ে ‘কটূক্তি করার’ অভিযোগ ওঠে স্থানীয় হবিবপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের গোপেন্দ্র দাসের ছেলে ঝুটন দাস আপন। এর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে পুলিশ জনতার সহযোগিতায় মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) রাতেই শশখাই বাজার থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার (১৭ মার্চ) সকালে উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের ১৫ থেকে ২০টি বাড়িঘর ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।
গেল বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) সকালে র্যাব হেডকোয়ার্টার থেকে হেলিকপ্টার যোগে সুনামগঞ্জের শাল্লার উদ্দেশ্যে আসেন র্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। এসে তিনি হবিবপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে দুর্বৃত্তদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর পরিদর্শন ও প্রেসব্রিফিং করে ঘটনার সাথে জড়িতদের কঠোর শান্তি ও গ্রামবাসীকে নিরাপদে বসবাসের আশ্বাস দেন। ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন এবং র্যাবের মহাপরিচালকের নির্দেশে নোয়াগাঁও গ্রামে অস্থায়ী র্যাব ও পুলিশ ক্যাম্প বসানো হয়েছে।
ঘটনার তিনদিন পর বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) পৃথক দুইটি মামলা হয়েছে। পরে রাতে পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২২ জনকে আটক করেছে। শাল্লা থানায় বৃহস্পতিবার দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। একটি মামলার বাদী শাল্লা থানার এসআই আব্দুল করিম। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা দেড় সহস্রাধিকজনকে আসামি করা হয়েছে।
অন্য মামলার বাদী স্থানীয় হবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল। মামলায় দিরাই উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের চন্দ্রপুর ও নাচনী এবং শাল্লা উপজেলার হবিবপুর, কাশিপুর গ্রামের ৮০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৭০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে ঘটনার উসকানিদাতা নাচনী গ্রামের বাসিন্দা ও সরমঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম ওরফে স্বাধীন মিয়াকে।










