রাষ্ট্র মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংক পিএলসির ঢাকা মহানগরীর শাখা ব্যবস্থাপকদের নিয়ে ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর মতিঝিলে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় ব্যাংকের বর্তমান ব্যবসায়িক পরিস্থিতি, খেলাপি ঋণ আদায়, আমানত সংগ্রহ, আয় বৃদ্ধি, গ্রাহকসেবা উন্নয়ন এবং লোকসানী শাখাগুলোকে লাভজনক শাখায় রূপান্তরসহ ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়া হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হেলাল আহমেদ চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আবু মো. মোফাজ্জেল।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সুভাষ চন্দ্র দাস, মহাব্যবস্থাপক মো. ইসমাইল, মো. মমিনুল হক, মো. নাসির উদ্দীন, সুমিত রঞ্জন নাথ, মো. হাসান ইমাম, মো. গোলাম সাঈদ খান, মো. সাইদুর রহমান সোহেল, ঢাকা মহানগরীর শাখা ব্যবস্থাপকগণ ও প্রধান কার্যালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেলাল আহমেদ চৌধুরী বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলার ও নির্দেশনার আলোকে খেলাপি ঋণ আদায় কার্যক্রম আরো জোরদার এবং ঋণ আদায়ে আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত ও কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সব নির্দেশনা যথাযথভাবে আত্মস্থ করে সেগুলোর পরিপালন নিশ্চিত করা ও কর্মক্ষেত্রে নৈতিকতার সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে হেলাল আহমেদ চৌধুরী উন্নত, সহজতর ও গ্রাহকবান্ধব ব্যাংকিং সেবা প্রদান এবং লোকসানী শাখাগুলোকে লাভজনক শাখায় রূপান্তরের মাধ্যমে ব্যাংকের আয় বাড়াতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানান।

তিনি ব্যাংকের বর্তমান ব্যবসায়িক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সর্বস্তরের কর্মকর্তাদের মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সৎ সাহস, দৃঢ় আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রত্যেক কর্মকর্তাকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ব্যাংকের ব্যবসায়িক পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে আবু মো. মোফাজ্জেল বেসিক ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের বিভিন্ন কৌশল ও করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি খেলাপি ঋণ আদায়ের বিভিন্ন কার্যকর কৌশল ও বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বেসিক ব্যাংককে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আমাদের সবাইকে সর্বাত্মকভাবে কাজ করতে হবে। ব্যাংকের স্বার্থে প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে আরো আন্তরিক, সক্রিয় ও উদ্যোগী হতে হবে।

সুভাষ চন্দ্র দাস বলেন, পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে আমাদের সবাইকে নড়েচড়ে বসতে হবে। পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে—পেছনে ফেরার আর কোনো সুযোগ নেই। এখন সম্মিলিত প্রচেষ্টা, দায়িত্বশীলতা ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি ছোট ও সম্ভাবনাময় নতুন ঋণ প্রদান, কম সুদের আমানত সংগ্রহ এবং নন-ফান্ডেড আয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।