চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে ইউনিয়ন ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চারটি শাখায় বিক্ষোভ করেছেন গ্রাহকরা। বিক্ষোভের একপর্যায়ে কিছু শাখায় তালা ঝুলিয়ে দিলে পরবর্তীতে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিক করে।
আজ সকাল ১১টা থেকে আমানতকারীরা স্বাভাবিক লেনদেন চালু ও লভ্যাংশ কর্তন বা ‘হেয়ার কাট’ পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করেন।
আন্দোলনকারী ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রথমে ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসির খাতুনগঞ্জ শাখায় শতাধিক গ্রাহক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এরপর তারা ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের কার্যালয়ে গিয়ে একই দাবি জানান। এ সময় উত্তেজিত গ্রাহকরা ব্যাংকের গেটে তালা লাগিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ এসে তা খুলে দেয়। পর্যায়ক্রমে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংকেও বিক্ষোভ করার সিদ্ধান্ত নেয় আন্দোলনকারীরা।
সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন পাঁচটি ব্যাংক নিয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের লভ্যাংশ কর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ নিয়মানুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের লভ্যাংশের ৪ শতাংশ রেখে বাকি অংশ গ্রাহকের মূল আমানত থেকে কেটে নেয়া হচ্ছে। এছাড়া আমানতকারীরা তাদের গচ্ছিত অর্থ প্রয়োজনমতো তুলতে না পারায় দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ বিরাজ করছিল।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক কে এম আবু সাঈদ বলেন, সাধারণ ব্যাংকার হিসেবে এ নিয়ম পরিবর্তনের বিষয়ে তাদের কিছুই করার নেই। তবে তিনি আমানতকারীদের দাবিগুলো শুনেছেন এবং সেগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ীই সম্মিলিত ব্যাংকের এ কার্যক্রম চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র মোহাম্মদ আজম অভিযোগ করে বলেন, লভ্যাংশ কেটে নেয়ার সিদ্ধান্তটি গ্রাহকদের জন্য অত্যন্ত অন্যায্য। তিনি জানান, লভ্যাংশ কর্তনের পরও গ্রাহকরা তাদের আমানত তুলতে পারছেন না। এ সিদ্ধান্ত বাতিল ও অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেয়ার দাবিতেই গ্রাহকরা আন্দোলনে নেমেছেন।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ব্যাংকগুলোয় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশ সার্বক্ষণিক তদারকি করছে। বিক্ষোভের কারণে ব্যাংকের কোনো ক্ষতি হয়নি। এছাড়া আর্থিক লেনদেন সচল রাখতে পুলিশ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং পুলিশ আন্দোলনকারীদের গতিবিধির ওপর নজর রাখছে।










