রোগী মৃত্যুর ঘটনায় খুলনার গল্লামারী এলাকার রাইসা ক্লিনিকের মালিক চিকিৎসক আবদুর রকীব খানকে (৫৯) হত্যার অভিযোগ এনে বুধবার দুপুরে নিহতের ছোট ভাই খুলনা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে খুলনা সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম বাহার বলেন, পুলিশ এ ঘটনায় বেজেরডাঙ্গা থেকে গত মঙ্গলবার রাতে আবদুর রহিম নামের একজনকে আটক করেছে। পরে তাকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদিকে বুধবার বিকেলে মহানগরীর নিরালা মসজিদের সামনে জানাজা শেষে নিরালা কবরস্থানে ডা. রকিবের মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মহানগরীর মোহাম্মদ নগরের পল্লবী সড়কের বাসিন্দা আবুল আলীর স্ত্রী শিউলী বেগমকে ১৪ জুন সিজারের জন্য রাইসা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ওই দিন বিকেল ৫টায় অপারেশন হয়। বাচ্চা ও মা প্রথমে সুস্থ ছিলেন। পরে রোগীর রক্তক্ষরণ হলে ১৫ জুন সকালে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানের চিকিৎসকরাও রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে না পেরে ঢাকায় নেয়ার পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার পথে ১৫ জুন রাতে শিউলী বেগম মারা যান। 

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ১৫ জুন রাতেই রোগীর স্বজন কুদ্দুস, আরিফ, সবুরসহ কয়েকজন নারী ডা. রকিবকে লাথি ঘুষি ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এতে তার মাথার পেছনে জখম হয়। তাকে প্রথমে গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে শেখ আবু নাসের হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

তিনি রাইসা ক্লিনিকের মালিক ও বাগেরহাট মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলের (ম্যাটস) অধ্যক্ষ। এছাড়া সিনিয়র এ চিকিৎসক বিসিএস স্বাস্থ্য প্রশাসনে পরিচালক পদমর্যাদায় চাকরি করতেন। বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) খুলনার আজীবন সদস্য ছিলেন ডা. রকিব।

খুলনায় মৃত প্রসূতির স্বজনদের হামলায় আহত চিকিৎসকের মৃত্যু