তিনি গতকাল প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ‘‌ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ ও বাস্তবায়ন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। আজ সকাল ১০টায় রাজধানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তিসংলগ্ন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ কার্ড উদ্বোধন করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেন জানান, প্রথম ধাপে ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন নারী ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কার্ড উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে তারা ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে এ ভাতা পেয়ে যাবেন। নির্বাচিত নারীরা মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পাবেন। এ সময় তিনি অন্য কোনো ভাতা বা সুবিধা পাবেন না। তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের ভাতা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে। পাঁচ সদস্যের পরিবারের জন্য একটি ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে। তবে যৌথ বা একান্নবর্তী পরিবারের ক্ষেত্রে সদস্য সংখ্যা পাঁচের অধিক হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেয়ার কথা বিবেচনা করা হবে। নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত সবাই ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। তবে উচ্চবিত্তরা আর্থিক সহায়তা পাবেন না বরং তাদের অংশের ভাতা দরিদ্রদের দেয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পাইলটিং পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী জুন পর্যন্ত সময়ের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা প্রদান এবং ১২ কোটি ৯২ লাখ টাকা কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহ, অনলাইন সিস্টেম প্রণয়ন, কার্ড প্রস্তুতি ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হবে।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিকীকরণ বা দলীয়করণ করা হয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনে যে অঙ্গীকার ছিল, তার অংশ হিসেবে একটি বড় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমরা বহুদিন ধরে বলে আসছি- বাংলাদেশের অর্থনীতির সুফল সব মানুষের ঘরে পৌঁছাতে হবে। কিন্তু বাস্তবে সেটা করা সহজ নয়। দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা মাথায় রেখে বড় কোনো সামাজিক কর্মসূচি হাতে নেয়াও সহজ নয়। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা মানুষদের আগে সহায়তা পৌঁছে দেয়া।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা দেখেছি, সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া মানুষ হচ্ছে হতদরিদ্র পরিবারগুলো। এসব পরিবারের গৃহস্থালি পরিচালনায় যে নারীপ্রধান ভূমিকা রাখেন, তাকে আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষমতায়নের লক্ষ্যেই ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ প্রকল্পটি বাংলাদেশের বাজেটের একটি বড় অংশের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই প্রকল্প পরিকল্পনার সময় থেকেই কীভাবে এ ব্যয় সামাল দেয়া যাবে, সে বিষয়েও বিস্তর কাজ করেছি।’

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে ‘যুগান্তকারী পদ্ধতি’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘এটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করবে। ডিজিটাল পদ্ধতি অনুসরণের ফলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অপচয় কমবে এবং প্রকৃত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে।’ এক্ষেত্রে অর্থ সংস্থানের জন্য ধাপে ধাপে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে জানান তিনি।