ঝালকাঠির রাজাপুরে কবি জীবনানন্দ দাসের রূপসী বাংলা কবিতার ঐতিহ্যবাহী ধানসিঁড়ি নদী খননে অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী।
গতকাল সকাল ১০টায় উপজেলার বাগড়ি বাজারসংলগ্ন ধানসিঁড়ি নদীতীরে বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কে এ কর্মসূচি পালিত হয়। ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে স্থানীয় দুই শতাধিক মানুষ অংশ নেয়।
এতে বক্তব্য রাখেন মঠবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজালাল আহম্মেদ, রাজাপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ফখরুল ইসলাম খান, উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি মো. সবুর খান, রাজাপুর সরকারি কলেজের সাবেক জিএস মো. নাসির উদ্দিন তালুকদার, মঠবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মজিবর রহমান ফকির ও নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
বক্তারা খননের নামে খালে রূপান্তর করা ধানসিঁড়ি নদীটির জীবনস্বত্বা ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। তারা বলেন, দুই যুগ আগেও ধানসিঁড়ি নদীটি ১২০ ফুট দৃশ্যমান ছিল। দুই পাড়ের জমি ভূমিদস্যুরা দখল করে বসতি স্থাপন করেছে। এখন নদীটির মাত্র ৫৫ ফুট দৃশ্যমান। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পুনরায় খনন শুরু করে নদীর নিচ থেকে মাটি কেটে প্রবহমান জায়গা ভরাট করারও অভিযোগ করেন বক্তারা। তারা আরো বলেন, ধানসিঁড়ি নদীর সীমানা নির্ধারণ করার পর নতুন করে পুরো নদী খনন করতে হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলাকাবাসী জানায়, ২০১৯ সালের মার্চে প্রধানমন্ত্রীর ডেলটা প্লান অনুযায়ী ৬৪ জেলার অভ্যন্তরীণ ছোট নদী খাল খনন প্রকল্পের আওতায় ধানসিঁড়ি নদীটি দুই বছর মেয়াদে দুই কিস্তিতে সাড়ে ৮ কিলোমিটার পুনর্খননের জন্য প্রায় ৪ কোটি ৪৯ লাখ ৩৮ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়।
দীর্ঘ ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ নদীটি ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান নদীর মোহনা থেকে দেড় কিলোমিটার বাদ দিয়ে তখন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খননকাজ শুরু করে। সে সময় ৪ লাখ ১৬ হাজার ৮০৬ দশমিক ৫ ঘনমিটার মাটি খনন করার কথা ছিল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক্সক্যাভেটর যন্ত্র দিয়ে পরে মাটি কেটে নদীর দুই পাড়ে রাখায় বৃষ্টিতে ধুয়ে পুনরায় নদী ভরাট হয়ে যায়। সম্প্রতি চলতি অর্থবছরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাজাপুরের বাগড়ি এলাকা থেকে নতুন করে নদীটি খনন শুরু করে।










