দিনাজপুরে মা ও ছেলেকে অপহরণ এবং ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে রংপুর অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) এএসপিসহ তিন পুলিশ সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে দিনাজপুরের দশমাইল এলাকা থেকে তাদের আটক করে জনতা।
বর্তমানে অপহরণকারী তিন পুলিশ সদস্য দিনাজপুর পুলিশ সুপারের হেফাজতে রয়েছেন।
আটক হওয়া ওই তিন পুলিশ সদস্য হলেন রংপুর সিআইডির এএসপি মো. সারোয়ার কবির, এএসআই মো. হাসিনুর রহমান ও কনস্টেবল আহসানুল হক।
অপহরণ হওয়া দুজন হলেন চিরিরবন্দর উপজেলার নান্দেরাই গ্রামের সলেমান শাহ পাড়ার লুত্ফর রহমানের স্ত্রী জহরা বেগম ও তার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম।
অপহরণ হওয়া জাহাঙ্গীর আলমের স্বজন মো. মামুন জানান, সোমবার রাত ১০টার দিকে সিআইডি পরিচয়ে লুত্ফর রহমানকে আটক করতে তার বাড়িতে আসেন আটক পুলিশ সদস্যরা।
পরে লুত্ফর রহমানকে না পেয়ে তার স্ত্রী জহরা বেগম ও তার ছেলে জাহাঙ্গীর আলমকে আটক করে নিয়ে যান তারা।
এ সময় জাহাঙ্গীরের পালসার মোটরসাইকেলটিও নিয়ে আসে সিআইডি পুলিশ।
মঙ্গলবার সকালে জাহাঙ্গীরের ফোন দিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে প্রথমে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
পরে ২০ লাখ, সর্বশেষ ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
এদিকে জাহাঙ্গীরের পরিবারের লোকজন চিরিরবন্দর থানায় বিষয়টি অবগত করে।
মুক্তিপণের টাকা নিয়ে জাহাঙ্গীরের স্বজন মামুন ও আফতাবুর জামান চিরিরবন্দর থানা পুলিশ সদস্য মো. তাজুল ইসলামসহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে অপহরণকারীদের দেয়া ঠিকানা অনুযায়ী রানীরবন্দর এলাকায় আসেন।
১ ঘণ্টা থাকার পরে তাদের বলা হয় দশমাইল তেলের পাম্পের কাছে আসতে।
এভাবে কয়েকবার জায়গা বদল করে সন্ধ্যায় হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন বাঁশেরহাট এলাকায় আসেন সিআইডির ওই তিন পুলিশ।
এ সময় স্থানীয়রা তাদেরকে ধাওয়া দিয়ে ধরে চিরিরবন্দর থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করে।
চিরিরবন্দর থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।










