কথাসাহিত্যে নাসিমা আনিস, প্রবন্ধ-গদ্যে সৈয়দ আজিজুল হক, শিশুসাহিত্যে হাসান হাফিজ, অনুবাদে আলী আহমদ, গবেষণায় মুস্তাফা মজিদ ও ইসরাইল খান, বিজ্ঞানে ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী এবং মুক্তিযুদ্ধে মঈদুল হাসানের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।

এদিকে ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫’-এর জন্য মনোনীত হয়েও পুরস্কার পাননি কবি মোহন রায়হান। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কবি মোহন রায়হান বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যায়ও আমি পুরস্কার গ্রহণের মহড়ায় অংশ নিয়েছি। তখনো আমাকে কিছুই বলা হয়নি। কিন্তু আজ অনুষ্ঠানে আসার পর জানতে পারলাম আমাকে পুরস্কার দেয়া হচ্ছে না। আমি এখনো জানি না এটা কি দাপ্তরিকভাবে বাতিল করা হয়েছে কিনা। যদি বাতিল করা হতো, তবে সরকারি প্রজ্ঞাপন থাকা উচিত ছিল।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘বাংলা একাডেমির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে আমার পুরস্কার স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এসেছে।’ তার দাবি, কর্নেল তাহেরকে নিয়ে চার দশক আগে তার লেখা ‘তাহেরের স্বপ্ন’ কবিতার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি ৪০ বছর আগে লেখা ওই কবিতার কারণেই আমাকে পুরস্কার দেয়া হয়নি।’

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘কবি মোহন রায়হানের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ ওঠায় পুরস্কারটি সাময়িকভাবে স্থগিত। মোহন রায়হানের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

এ নিয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘মোহন রায়হানের বিরুদ্ধে বেশকিছু অভিযোগ আছে। এসব বিষয় খতিয়ে দেখে আবার পুরস্কার ঘোষণা করা হবে। আগের সরকারের সময় বাংলা একাডেমি তাকে এ পুরস্করের জন্য মনোনয়ন দিয়েছিল। এখন আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব। তারপর সিদ্ধান্ত হবে।’ কোন ধরনের অভিযোগ মোহন রায়হানের বিরুদ্ধে ছিল—এ প্রশ্নের জবাবে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটা নিয়ে এখন কথা বলা যাবে না। বিষয়টি যেহেতু খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তাই এ বিষয়ে বলা যাবে না।’

এ বিষয়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ‘মোহন রায়হানের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। তাই তাকে আপাতত পুরস্কার দেয়া হয়নি। আমরা অভিযোগগুলো যাচাই করে দেখছি। সেগুলো বিবেচনার পর নিশ্চয়ই সিদ্ধান্ত দেয়া হবে। একটু অপেক্ষা করতে হবে।’