জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে সরকার নিয়মতান্ত্রিক ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আবেগের কোনো স্থান নেই। রাষ্ট্রীয় আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করাই সরকারের লক্ষ্য।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে একটি অভিজাত হোটেলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ‘বিচারিক কার্যক্রমে শুদ্ধাচার’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে আজ সকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী। টিআইবি ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) যৌথভাবে আয়োজিত এ কর্মশালায় অধস্তন আদালতের ২৫ জন বিচারক অংশ নেন।

শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘তার বিষয়ে আইনগতভাবে যা যা করণীয়, তা আমরা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় করছি। এ ক্ষেত্রে সব পদক্ষেপ হবে আইনসংগতভাবে। কোনো আবেগের বিষয় থাকবে না, আমরা আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করব।’

ভারতের আদালতের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি একান্তই ভারত সরকারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে দ্বিপক্ষীয় বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে এরই মধ্যে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে। ভারত তাকে হস্তান্তর করলে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

আইনমন্ত্রী আরো বলেন, ‘ভারত কী বলছে, তারা বললেই তো আর বাস্তবতা বদলে যাবে না। আমার রাষ্ট্রে উন্মুক্ত আদালতে তার বিচার হয়েছে। আমাদের কাছে তিনি একজন অপরাধী—দেশের ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ঘোষিত সাজাপ্রাপ্ত একজন অপরাধী। এটাই আমাদের কাছে তার চূড়ান্ত পরিচয়।’

এসময় আগামী ১৯ নভেম্বর আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা-সংক্রান্ত মামলার রায়ে বাংলাদেশ ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছে বলেও জানান আসাদুজ্জামান।