ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, ডাকঘরের মাধ্যমে ই-কমার্স, ব্যাংকিং ও কুরিয়ার সার্ভিস আরো বেশি স্মার্ট করে গড়ে তোলা হবে। এজন্য ডাকঘরকে এসব সেবার সহায়ক শক্তি হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এ লক্ষ্যে শতাব্দীর প্রাচীন ডাক আইন পরিবর্তনসহ ডাকঘরের বিশাল অবকাঠামো, সুবিস্তীর্ণ জনপদ ও জনবল কাজে লাগাতে পরিকল্পনা প্রণয়নে কাজ শুরু হয়েছে।

শনিবার (৩০ মার্চ) টুঙ্গিপাড়া প্রধান ডাকঘর, কোটালীপাড়া উপজেলা ডাকঘর, রংপুরের পীরগঞ্জ ডাকঘর এবং প্রধান ডাকঘর যশোরকে স্মার্ট সার্ভিস পয়েন্টে রূপান্তর উদ্বোধন উপলক্ষে স্মার্ট প্লাটফর্মে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এর পর মন্ত্রী ৪টি স্মার্ট সার্ভিস পয়েন্ট অব পোস্ট অফিসের উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেন।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্মার্ট সার্ভিস পয়েন্ট অব পোস্ট অফিসের মাধ্যমে নিয়মিত ডাক সেবার পাশাপাশি দেশের দুর্গম এলাকাসহ গ্রামের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্মার্ট পরিষেবা পৌঁছে দেয়া হবে। ফলে একদিকে ডিজিটাল বৈষম্য হ্রাস পাবে, অন্য দিকে গ্রামে বসেই ৩২৫টিরও বেশি ই-গভর্নমেন্ট সেবা, ই-কমার্স ও ব্যাংকিং সেবা পাবে। এ লক্ষ্যে সরকার দেশের সব ডাকঘর স্মার্ট সার্ভিস পয়েন্টে রূপান্তরে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৫ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টি সম্পন্ন প্রজ্ঞাবান নেতৃত্বে আমরা প্রযুক্তিনির্ভর জাতিতে পরিণত হয়েছি। আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের দিক নির্দেশনায় প্রচলিত ডাক ব্যবস্থা স্মার্ট ডাক ব্যবস্থায় রূপান্তরের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। অগ্রগতির অগ্রযাত্রার এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সালের আগেই আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমৃদ্ধ জাতিতে পরিণত হব।

স্মার্ট সার্ভিস পয়েন্ট (এসএসপি) উদ্যোগ, প্রথাগত ডাক পরিষেবাগুলোর সঙ্গে ডিজিটাল সমাধানগুলো একীভূত করার একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে পার্সেল ট্র্যাকিং, বিল পেমেন্ট এবং ই-কমার্স সুবিধার মতো সুযোগ-সুবিধার আয়োজন নিয়ে এ সার্ভিস পয়েন্ট বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় অভিগম্যতা ও দক্ষতার বিপ্লব ঘটাবে। তিনি ডাকঘরকে মেইল ডেলিভারি থেকে সার্ভিস ডেলিভারিতে রূপান্তরের এ পথ চলা সহজ করতে ডাক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যেকোনো অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

অনুষ্ঠানে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক তরুণ কান্তি সিকদার, দক্ষিণাঞ্চল খুলনার পোস্ট মাস্টার জেনারেল সামসুল আলম, উত্তরাঞ্চল রাজশাহীর পোস্ট মাস্টার জেনারেল কাজী আসাদুজ্জামান, গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম, রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান এবং পুলিশ সুপার মো. ফেরদৌস আলী চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন।