নভেল করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বান্দরবানে অসহায়-দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণ স্বাবলম্বীদের মাঝে বিতরণের অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা খ্রিস্টান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশের (সিসিডিবি) বিরুদ্ধে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলা সদর, রোয়াংছড়ি ও রুমা উপজেলায় উপকারভোগী অসহায় ও দরিদ্র ৫৭৫টি পরিবারের মাঝে মানবিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের কাছে আলাদাভাবে আবেদন করে সংস্থাটি। ২৩ জুলাই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনুমতি দেয় বান্দরবান সদর উপজেলা প্রশাসন। ত্রাণ বিতরণের জন্য রোয়াংছড়ি ও রুমা উপজেলা প্রশাসনেরও অনুমতি পায় সংস্থাটি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৭, ২৮ ও ২৯ জুলাই উপকারভোগীদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করে সিসিডিবি এবং সংস্থাটির সহযোগী স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা ক্যাফ।

সিসিডিবির হিসাব শাখা সূত্র জানায়, টিয়ারফান্ড বাংলাদেশের সহযোগিতায় কভিড-১৯ রেসপন্স, ফেজ-২ প্রকল্পের আওতায় ১৩ লাখ টাকার একটি তহবিল পায় সিসিডিবি বান্দরবান অফিস। এ তহবিলের টাকায় বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি ও রুমা উপজেলায় সিসিডিবির উপকারভোগী ৫৭৫ পরিবারের মাঝে খাদ্য ও স্যানিটাইজার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। তবে এরিয়া ম্যানেজারের ভাষ্যমতে, ৫৭৫ জনের মধ্যে উপকারভোগীর বাইরে ২৫০ জনকে সহায়তা করার বিষয়ে হেড অফিসের অলিখিত নির্দেশনা ছিল।

ত্রাণ বিতরণের পর একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয় সিসিডিবি। তাতে বলা হয়, অসহায়, প্রতিবন্ধী, বিধবা ও বয়স্ক ৫৭৫টি পরিবারের মাঝে মোট ১৩ লাখ টাকার খাদ্য ও স্যানিটাইজার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের ফারুকপাড়ার কারবারী জনথাং বম বণিক বার্তাকে বলেন, গত মাসের শেষ সপ্তাহে আমিসহ এ পাড়ার বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চ সংঘের (বিবিসিএস) ১০ জন ও প্রেসবিটারিয়ান চার্চ ইন বাংলাদেশের (পিসিবি) ৩১ জন্য সদস্য সিসিডিবির দেয়া সহযোগিতা পেয়েছে। এছাড়া শ্যারনপাড়া, গেিসমানীপাড়া, বেথানিপাড়া, রেনিক্ষ্যং বাগানপাড়া ও লাইমীপাড়া মিলে দুই মন্ডলীর আরো অন্তত ৪০ জন সদস্য সহায়তা পেয়েছে। সিসিডিবির মাধ্যমে সদর, রোয়াংছড়ি ও রুমা উপজেলায় দুই মন্ডলীর ২৫০ জন সদস্য এ সুবিধা পেয়েছে। সহযোগিতা পাওয়া খ্রিস্টান ধর্মের এ দুই মন্ডলীর সদস্যরা সিসিডিবির কোনো প্রকল্পের উপকারভোগী নয় এবং বেশির ভাগ সদস্য কমবেশি স্বাবলম্বী। ত্রাণ বিতরণের কয়েক সপ্তাহ আগে দুই মন্ডলীর সদস্যদের নামের তালিকা চেয়ে নিয়েছিলেন ক্যাফের নির্বাহী পরিচালক ও পিসিবির বান্দরবান সাধারণ সম্পাদক জারলম বম।

সিসিডিবির লাইমীপাড়া মহিলা ফোরামের সভানেত্রী ভান মুন কিম বম বলেন, গত জুনের মাঝামাঝি ফোরামের ৩১ জন নারী সদস্যের মধ্যে ১৮ জনের নামে ত্রাণ পাঠায় সিসিডিবি। এতে বাকি সদস্যরা মনঃক্ষুণ্ন হতে পারেন এ বিবেচনায় ফোরামের তাত্ক্ষণিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৮ জনের ত্রাণ ৩১ জনের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করা হয়।

এদিকে লাল থম বম নামের তুলা উন্নয়ন বোর্ডের এক সরকারি কর্মচারী এ সংস্থার দেয়া হতদরিদ্রদের ত্রাণ পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সুমন চৌধুরী বা পারকোয়াম আমার নাম সিসিডিবির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে থাকতে পারেন। আমি বিবিসিএসের একজন সদস্য। তবে বর্তমানে পরিবার নিয়ে তুলা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সরকারি বাসভবনে রয়েছেন বলে জানান তিনি।

সিসিডিবির বান্দরবান এরিয়া ম্যানেজার সুদীপন খীসা বণিক বার্তাকে বলেন, আমাদের অফিসের বিষয়ে তদন্ত করতে আপনাকে কে নিয়োগ দিয়েছে? আমি দিয়েছি? আমাদের অফিসের বিষয়ে অনুসন্ধান করার আপনার কোনো অধিকার নেই। আপনি এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনওর সঙ্গে কথা বলেন।

এসব বিষয়ে বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শামীম হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, হতদরিদ্রদের ত্রাণ অন্য কাউকে দেয়া হবে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এটি সম্পূর্ণ অনুচিত। সরকারি বিধি ভঙ্গ করলে সংস্থাটিকে এর জবাবদিহি করতে হবে।