চট্টগ্রাম অঞ্চলে সর্বশেষ আমন মৌসুমে বীজ ধান সংগ্রহ হয়েছে রেকর্ড ৬১৬ টন। এ অঞ্চলে আমন ধানের উৎপাদন ক্রমে বৃদ্ধি পাওয়া এবং গত দিনগুলোয় ভালো মানের বীজ উৎপাদন হওয়ায় সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। গত মৌসুমে অঞ্চলটি থেকে ৫৮৭ টন বীজ সংগ্রহ করে বিএডিসি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বীজ ধানের সংগ্রহ বেড়েছে প্রায় ২৯ টন। লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ সংগ্রহ করতে পেরে খুশি বিএডিসির কর্মকর্তারা। 

তারা বলছেন, কৃষক ধান কাটার পর যথাযথ নিয়ম প্রক্রিয়াজাতকরণ করলে তবেই চুক্তিভিত্তিক কৃষকদের কাছ থেকে বীজ ধান সংগ্রহ করা হয়। সঠিক নিয়মে ধান প্রক্রিয়াকরণ না করা হলে বীজ সংগ্রহ করা হয় না। যে পরিমাণ ফলন চট্টগ্রাম অঞ্চলে হয়েছে তাতে বীজ সংগ্রহে কোনো সমস্যা হয়নি। ধানের চেয়ে বীজের দাম বেশি হওয়ায় কৃষকদেরও আগ্রহ বাড়ছে। 

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) তথ্যমতে, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে গত মৌসুমে শুধু বীজ সংগ্রহের জন্যই ৬৮০ একর জমিতে আমন ধান আবাদ করা হয়। একরপ্রতি সর্বোচ্চ এক টন বীজ সংগ্রহ করা হয়। গত মৌসুমে অঞ্চলের দুই জেলায় ৬১৬ টন আমন বীজ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। এর মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে রেকর্ড ৫০৭ দশমিক ৫৩ টন ও কক্সবাজার থেকে ১০৮ দশমিক ৪৮ টন সংগ্রহ করা হয়েছে। ৯৮ জন কৃষক থেকে বীজ ধান নেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮০ জন চট্টগ্রামের ও ১৮ জন কক্সবাজারের। 

চট্টগ্রাম জেলায় ৮০ জন নিবন্ধিত কৃষক থেকে আট জাতের আমন ধানের ৪৩৪ টন বীজ সংগ্রহ করা হয়েছে। কক্সবাজারে চার জাতের আমন বীজ উৎপাদনের জন্য বিএডিসির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন ১৮ জন কৃষক। 

বিএডিসির সহকারী পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বণিক বার্তাকে জানান, প্রতি একর জমি থেকে এক টন বীজ ধান কেনা হয়। আমন আবাদের শুরুতে প্রতি একরের জন্য চাষীকে ১০ কেজি করে বীজ ধান সরবরাহ করা হয়েছিল। চাষাবাদের পর ধান কেনার সময় প্রতি কেজি বীজ ধানের জন্য ৪৯ টাকা দর দিয়েছি। এটি বাজারের আমন ধানের দামের চেয়ে বেশি। 

বিএডিসির কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম অঞ্চলের দুই জেলায় আমনের বীজ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ পূরণ হয়েছে। মার্চের আগেই গুদামে ধানবীজগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ পূরণ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। 

বিএডিসির উপপরিচালক (কন্ট্রাক্ট গ্রোয়ার্স) আবু সাইদ মোহাম্মদ হাসান লতিফ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে সমাপ্ত আমন মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ প্রায় ৬১৬ টন ধানবীজ সংগ্রহ করা হয়েছে। বীজ সংগ্রহের ক্ষেত্রে আমাদের কিছু নীতিমালা মানতে হয়। যার কারণে বাছাই প্রক্রিয়া বেশি করতে হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ সফলতা পাওয়া গেছে। এখন বোরোর বীজ ধানের জন্য মাঠে কাজ করছেন কৃষি কর্মকর্তারা। বোরো মৌসুমে প্রায় ১ হাজার ১০০ টন বীজ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে সরকার।’