আগে কাদামাটি মাড়িয়ে আমার ছেলেকে বিদ্যালয়ে যেতে হতো। শুষ্ক মৌসুমে বিদ্যালয়ে যাওয়া সহজ হলেও বর্ষাকালে ছেলেটা বিদ্যালয়ে যেতে চাইত না। কিন্তু বাড়ির পাশের শহীদ সফিউদ্দিন সড়কটি পাকা করায় এখন বিদ্যালয়ে যেতে অসুবিধা হয় না। কথাগুলো বলছিলেন চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের দেওখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক ছাত্রের মা কোহিনূর বেগম। শুধু কোহিনূর বেগম নয়, শহীদ সফিউদ্দিন সড়কটি পাকা করায় খুশি ইছাখালী ইউনিয়নের পাঁচ গ্রামের প্রায় আট হাজার মানুষ। যারা নিয়মিত ওই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইছাখালী ইউনিয়নের শহীদ সফিউদ্দিন সড়কটি প্রায় ৮০০ মিটার কাঁচা ছিল। বর্ষাকালে এ সড়কে চলাচল করতে গিয়ে ইউনিয়নের পাঁচ গ্রামের প্রায় আট হাজার মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যেত। এছাড়া সড়কটি দিয়ে চলাচল করত স্থানীয় দেওখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাই স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করে শহীদ সফিউদ্দিন সড়কের ৮০০ মিটার কার্পেটিং করা হয়েছে। আইআরআইডিপি-৩ প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২২ অর্থবছরে বাস্তবায়িত এ সড়ক পাকাকরণে খরচ হয়েছে ৯৩ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। সড়কে তিনটি কালভার্টও রয়েছে ।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইছাখালী ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ শহীদ সফিউদ্দিন সড়কটি দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। বর্ষায় দেওখালী, আবুরহাট, ঝুলনপুল, টেকেরহাটসহ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দা কাদামাটি মাড়িয়ে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হতো। এ সময় শিশুরা বিদ্যালয়ে যেত চাইত না। ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিতেও অনেক কষ্ট হতো।

উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আমিনুল ইসলাম জানান, সড়কটি দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। এ সড়ক ইছাখালী ইউনিয়ন ছাড়াও আশপাশের অনেক ইউনিয়নের মানুষ ব্যবহার করে। সড়কটি কার্পেটিং করায় স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হয়েছে। 

ইছাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল মোস্তফা জানান, শহীদ সফিউদ্দিন সড়কটি পাকা করায় স্থানীয়রা বেজায় খুশি।

উপজেলা প্রকৌশলী রনি সাহা জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে মিরসরাইসহ সারা দেশে ব্যাপক উন্নয়ন করা হচ্ছে। শহীদ সফিউদ্দিন সড়কটি কার্পেটিং হওয়ায় এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়বে। পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাবে ইছাখালীসহ আশপাশের আরো কয়েকটি ইউনিয়ন।