কৃষি ব্যাংকের রাজবাড়ী শাখায় ৩৪৬টি ঋণ প্রস্তাব করে ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার দুদক সমন্বিত ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক রেজাউল করিম এ মামলা করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন কৃষি ব্যাংক রাজবাড়ী শাখার সাবেক পরিদর্শক বর্তমানে শরীয়তপুর মুখ্য আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মকর্তা (সাময়িক বরখাস্ত) ও রাজবাড়ী সদরের বিনোদপুর কলেজপাড়ার শামসুদ্দিন মৃধার ছেলে রেজাউল হক (৪৩), সাবেক পরিদর্শক বর্তমানে কৃষি ব্যাংক রাজবাড়ী মূলঘর শাখার কর্মকর্তা (সাময়িক বরখাস্ত) ও  রাজবাড়ী দক্ষিণ ভবানীপুর এলাকার মৃত সৈয়দ আমীর আলীর ছেলে মোর্তুজা আলী (৪১), সাবেক পরিদর্শক বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত চরনারায়ণনপুর গ্রামের মৃত গেজন মণ্ডলের ছেলে গোলাম গাউস (৬৫), রাজবাড়ী শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত সজ্জনকান্দা গ্রামের মৃত আবু ইউসুফের ছেলে মইনুল ইসলাম (৬৩), রাজবাড়ী শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত গোপালগঞ্জ জেলার হাটবাড়িয়া গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে মো. ওয়াহিদুজ্জামান (৬৫), রাজবাড়ী শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক, বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত রাজবাড়ীর লক্ষণদিয়া গ্রামের মৃত খুরশেদ আলমের ছেলে মো. সিদ্দিকুর রহমান (৬৮), রাজবাড়ী শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক, বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত শরীয়তপুর জেলার আংগারিয়া গ্রামের ওয়াজ উদ্দিন সরদারের ছেলে এসএম দেলোয়ার হোসেন (৬১)।

মামলা সূত্রে জানা যায়, আসামিরা প্রচলিত বিধিবিধান ও জেনারেল ব্যাংকিং ম্যানুয়াল লঙ্ঘন করে কৃষি ব্যাংক রাজবাড়ী শাখায় কর্মরত থাকাকালে ২০১৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ৩৪৬টি ঋণ নথি তৈরি করেন। এর বিপরীতে ২ কোটি ২০ লাখ ১৯ হাজার টাকা ঋণ প্রদানের প্রস্তাব ও সুপারিশ করেন। ঋণ নথি ব্যবস্থাপকের মাধ্যমে মঞ্জুর করে বিভিন্ন গ্রাহকের নাম ব্যবহার করে ঋণ প্রদান বা উত্তোলনপূর্বক বিভিন্ন সময়ে ১৭ লাখ ৭১ হাজার ৮১৮ টাকা নিজেরাই জমা করেন। বাকি ২ কোটি ২ লাখ ৪৭ হাজার ১৮২ টাকা ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরস্পর যোগসাজশে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ ও আত্মসাতে সহায়তা করেন। এ কারণে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।