জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

আজ বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এ বৈঠক শুরু হয়। এ বৈঠকে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, এলডিপি, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি, আমার বাংলাদেশ পার্টিসহ (এবি পার্টি) ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, নির্বাচন ব্যবস্থা, পুলিশ ও জনপ্রশাসনসহ ছয়টি বিষয়ে ঐকমত্য গঠনের জন্য যাত্রা করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। সেই উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দুই ধাপে আলোচনা করে কমিশন। অবশেষে গত ৩১ জুলাই ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’-এর একটি অসমাপ্ত খসড়া দলগুলোর কাছে পাঠানোর পর এর বাস্তবায়নের পন্থা নিয়ে দলগুলোর মধ্যে তৈরি হয়েছে মতানৈক্য।

এখনো বাস্তবায়নের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে না পারায় কয়েকধাপে মেয়াদ বাড়ানো হয় ঐকমত্য কমিশনের। সর্বশেষ ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের অক্টোবরে সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, প্রশাসন ও পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিবেদন জমা দেয় কমিশনগুলো। জমা দেয়া সুপারিশগুলোর মধ্যে যেগুলো ‘আশু বাস্তবায়নযোগ্য’ সেগুলো চিহ্নিত করে কাজ শুরু করা হয়েছে।

সে সময় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার কথা উল্লেখ করে চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কাজ শুরুর জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে সভাপতি করে সাত সদস্যের জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়। অধ্যাপক আলী রীয়াজকে করা হয় এ কমিশনের সহসভাপতি। ঐকমত্য কমিশনের সদস্য হিসেবে কমিটিতে ছিলেন জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন প্রধান আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী, পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রধান সফর রাজ হোসেন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রধান বিচারপতি এমদাদুল হক এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. ইফতেখারুজ্জামান।

যেখানে ১৬৬টি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ নিয়ে দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ঐকমত্য কমিশন।