চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার চাকুলিয়া ভারতের অভ্যন্তরে আব্দুল গনি নামের বাংলাদেশী এক গরু ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে কয়েকজন ভারতীয় নাগরিক। সোমবার রাতে ভারতের হুদাপাড়া সীমান্তের ৮৭ নং মেইন পিলালের অভ্যন্তরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আব্দুল গনি দামুড়হুদা উপজেলার চাকুলিয়া গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তে এতো নজরদারীর মধ্যেও চিহ্নিত কয়েকজন চোরাকারবারি সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিদিনই অবৈধভাবে ভারতের অভ্যন্তরে ঢুকে গরু ও ফেনসিডিল পাচার করে আসছিলো। রাতের আঁধারে তাদের চলাচলের কারণে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার ভীমপুর থানার হুদাপাড়া গ্রামবাসীর ফসলের ক্ষেত নষ্ট হয়ে যায়। যেকারণে চোরাকারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত ক্ষতিপুরণ পেয়ে থাকে তারা। তবে বেশ কিছু দিন ধরে ক্ষতিপুরণ পাচ্ছে না চাকুলিয়া গ্রামের কৃষকরা।

গত সোমবার রাতে ভারতের অভ্যন্তরে গেলে চাকুলিয়ার গ্রামবাসী ওপর লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এসময় বাবলু ও মিকা নামের দুই ব্যক্তি নিরাপদ আশ্রয়ে গেলেও আব্দুল গনি ভারতীয় গ্রামবাসীর রোষে পড়ে। তাকে মারাত্মক আহত অবস্থায় সীমান্তের ৮৭ নম্বর প্রধান খুঁটির দুদেশের শুন্য রেখার কাছে ফেলে রেখে যায়। মঙ্গলবার ভোরে আহত অবস্থায় আব্দুল গনিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক সোহবার হোসেন বলেন, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আব্দুল গনি হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে  আনার আগেই তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তের জন্য সেখান থেকে লাশ মর্গে পাঠানো হয়।

চুয়াডাঙ্গা-৬ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের পরিচালক মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান পিএসসি জানান, কিছু গণমাধ্যমে সীমান্তবর্তী চাকুলিয়া গ্রামের চিহ্নিত চোরাকারবারি আব্দুল গনিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে যে খবর প্রচার হচ্ছে তা ঠিক নয়। প্রাথমিকভাবে তদন্ত করে জানা গেছে, সেখানকার গ্রামবাসীর আক্রান্তের শিকার হয়ে সে মারা গেছে।