শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষার দোহাই দিয়ে ন্যায্য মজুরি থেকে শ্রমিককে বঞ্চিত করা যাবে না। বরং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে মালিক-শ্রমিকের অংশগ্রহণের সমতাকে বিবেচনায় রেখে জীবন ধারণের মতো মজুরি নির্ধারণে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন শ্রমিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
রোববার (২৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিল্স) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। রাজধানীর ডেইলি স্টার সেন্টারে মন্ডিয়াল এফএনভি’র ‘মজুরি নির্ধারণ প্রক্রিয়া: নিম্নতম মজুরী বোর্ডের কার্যপরিধি, চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শিরোনামে এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোস্তাফিজ আহমেদ। তিনি বলেন, শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানের জন্য প্রতিনিধি কীভাবে নির্ধারণ করা হয়, তা শ্রমিকরা জানে না। প্রতি ৫ বছর পর পর মজুরি পর্যালোচনা হওয়ার কথা থাকলেও তা প্রায়ই অনিয়মিত। শুধুমাত্র শ্রমিকদের জন্য মজুরি নির্ধারণ না করেই জাতীয়ভাবেই ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান সিনিয়র ডিস্ট্রিক্ট জজ মামুনুর রশিদ বলেন, মজুরি বোর্ডের সুপারিশ ঠিকমতো বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা দেখার কেউ নেই। বৈষম্য দূরীকরণে সবার জীবনধারণের জন্য যে মজুরি দরকার, তা দিতে হবে।
মজুরি ঠিকমতো দেয়া হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করার দায়িত্ব বোর্ডকে দেয়া ও বোর্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা শ্রমিক বান্ধব না হয়ে দেশকে কতটুকু দিতে পেরেছি? আমাদেরকে একক স্বার্থের বাইরে গিয়ে সামগ্রিক চিন্তা করতে হবে।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রকল্প কর্মকর্তা নিরান রামজুঠান বলেন, বাংলাদেশ এখনো ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ সংক্রান্ত আইএলও কনভেনশন ১৩১ অনুসমর্থন করেনি। এর ফলে উপার্জনকারীদের ন্যায্য ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিত করা যায়নি। বাংলাদেশের ন্যূনতম মজুরি বোর্ড বিভিন্ন কারণে তাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য, মজুরি সমন্বয়, অন্তভূক্তি এবং প্রতিনিধিত্ব, লৈঙ্গিক বৈষম্য দূরীকরণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারেনি। এসব সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশকে তথ্যভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে।
বিল্সের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গোলটেবিলে বৈঠকে আরো বক্তব্য রাখেন বিলসের মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান, নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ প্রমুখ।










