আগামী এক সপ্তাহ ইউক্রেনে কোনো হামলা রুশ বাহিনী চালাবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ব্যাপরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে মার্কিন মন্ত্রীসভার বৈঠকে এ দাবি করেছেন তিনি। খবর আরটি।

বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনে আগামী এক সপ্তাহ কোনো হামলা চালাবে না রুশ বাহিনী। কারণ সেখানে মারাত্মক শীত পড়েছে…আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে কিয়েভ ও অন্যান্য শহরে হামলা বন্ধের জন্য তাকে আহ্বান জানিয়েছিলাম এবং তিনি তাতে রাজী হয়েছেন। আমাদের আলোচনা ছিল খুবই চমৎকার।’

এর আগে, বুধবার ইউক্রেনের জনৈক এমপি অ্যালেক্সেই গোনচারেঙ্কো সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছিলেন, ইউক্রেনের বিদ্যুৎখাতে হামলা বন্ধের ব্যাপারে কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়ের কয়েক ঘণ্টা আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তর ক্রেমলিনের প্রেস সেক্রেটারি দিমিত্রি পেসকভের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন সাংবাদিকরা, তবে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রসঙ্গত, ইউক্রেনে এখন তীব্র ঠাণ্ডা চলছে। বর্তমানে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় গড় তাপমাত্রা মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, কিন্তু সামনের রোববার থেকে এই তাপমাত্রা আরও কমে মাইনাস ১৩ ডিগ্রিতে নেমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইউক্রেনের আবহাওয়া দপ্তর।

অভিযানে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী ও সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবারহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করেও হামলা করছে রুশ সেনারা। সর্বশেষ গত ২৬ জানুয়ারি রাতভর রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ স্থাপনাগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রুশ বাহিনী। এতে বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে ইউক্রেনের ১ হাজার ৩৩০টি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনসহ ১২ লক্ষাধিক বাড়িঘর। ইউক্রেনের বিদ্যুৎমন্ত্রী ডেনিস শ্মিগাল জানিয়েছেন, সরকার বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছে, তবে এখনও ১০ লাখের বেশি বাড়িঘর বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে।