শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডের টাকা থেকে ত্রাণের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে লালমনিরহাট পরিবহন শ্রমিকরা। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের লালমনিরহাট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। বছরের পর বছর ধরে এই ফান্ডে চাঁদা দিয়ে আসলেও করোনার এই দুর্যোগের সময় সেই ফান্ড থেকে কোন সহায়তা আসছে না বলে জানান ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।

মানববন্ধনে শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, ‘শুধু শ্রমিকদের চাঁদার টাকায় নয় বুড়িমারী থেকে তিস্তা পর্যন্ত বিভিন্ন পরিবহন থেকে কল্যান ফান্ডের নামে আদায় করা হয় মোটা অঙ্কের টাকা। অথচ সেই টাকার কোন হদিস নেই। পরিবহন শ্রমিকরা আজ কর্মহীন হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে চরম কষ্টে দিনাতিপাত করছে। আর শ্রমিকদের কল্যান ফান্ডের টাকা আত্মসাৎ করে শ্রমিক নেতারা তৈরি করেছেন বিলাসবহুল বাড়ি, কিনেছেন জমি ও গাড়ি। শ্রমিকদের রক্তচুষে নেতারা কোটিপতি হয়েছে কিন্তু শ্রমিকদের বিপদে তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন না।

শ্রমিকদের কল্যাণ ফান্ড থেকে জমানো টাকা না দিলে শ্রমিকরা বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবেন বলে হুঁশিয়ারি করেন। শ্রমিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, তিস্তা এন্টারপ্রাইজের বাসচালক রবিন হোসেন, অনিন্দ্য পরিবহনের চালক মাহফুজার রহমান, ইয়ামিন পরিবহনের চালকের সহকারী মাইদুল ইসলাম প্রমুখ।

বক্তারা অভিযোগ করেন, বাস ও মিনিবাস শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের নামে লালমনিরহাট জেলার মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার দূরপাল্লার ১৪০টি বাস ও মিনিবাস থেকে প্রতিদিন অর্ধলক্ষাধিক টাকা চাঁদা তোলা হয়। আর আমরা এই করোনাকালে ২৬ মার্চ থেকে কর্মহীন অবস্থায় আছি। এখন পরিবার নিয়ে অর্ধাহারে বা প্রায় অনাহারে দিন কাটাচ্ছি। সংগঠনের শ্রমিকনেতারা ভালোই আছেন। আমাদের খোঁজখবর নেওয়ার ওনাদের সময় নাই। আমরা শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের টাকা থেকে ত্রাণ সহায়তা আর তহবিলের টাকার হিসাব চাই।

জানতে চাইলে লালমনিরহাট জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের দেওয়া কল্যাণ তহবিলের জন্য চাঁদা তোলার হিসাব সঠিক নয়। বিভিন্ন কারণে যেমন শ্রমিক কর্মহীন বা বেকার বা পঙ্গু হয়ে যায়। তখন কল্যাণ তহবিলের টাকা দিয়ে ওইসব শ্রমিককে সহায়তা করা হয়েছে। আন্দোলনকারী শ্রমিকরা অন্য রাজনৈতিক দলের সমর্থনপুষ্ট ও নিবন্ধনবিহীন শ্রমিক বলেই আমাদের বিরুদ্ধে এসব মনগড়া অভিযোগ করছেন। 

করোনার এই দুর্যোগের সময়ে দুই দফায় ৪৫০ জন কর্মহীন শ্রমিককে ত্রাণ সহায়তা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।