জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বলেছেন, ‘সরকারের কাছ থেকে আমরা শুনি ‘‘সবার আগে বাংলাদেশ’’, কিন্তু কার্যত দেখা যাচ্ছে ‘‘সবার পরে বাংলাদেশ’’। সবার আগে সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ কিংবা সবার আগে যুক্তরাষ্ট্র, মার্কিন স্বার্থ কিংবা সবার আগে ট্রাম্পের স্বার্থ, এটিই তো। বাংলাদেশের মানুষ এজন্য ভোট দেয়নি।’
গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে মিডিয়া অ্যান্ড সিভিল রাইটস সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘চট্টগ্রাম বন্দর ও জাতীয় স্বার্থ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির হৃদপিণ্ড। দেশের আমদানি-রফতানির প্রায় ৯০ শতাংশ এ বন্দর দিয়ে হয়। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ বিদেশী প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেয়ার সঙ্গে অন্যান্য দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনার তুলনা চলে না। কোনো দেশের ধরেন, ১০-২০টি কিংবা ১০০টি বন্দর আছে, সেখানে তারা যদি পাঁচ থেকে ছয়টি বন্দর বিদেশী কোম্পানিকে দেয় সেটির একটি অর্থ আছে। কিন্তু যেখানে মূল বন্দরই একটি, যেখানে এ একটি বন্দরের ওপর দেশের পুরো অর্থনীতি নির্ভর করে, সেটি অন্যজনের হাতে তুলে দেয়া যায় না।’
বন্দর নিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘এরই মধ্যে যারা পরিচালনা করছেন এবং নৌবাহিনী কিংবা প্রাইভেট কোম্পানি, তারা দেখিয়েছেন—এটি যদি রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ ও পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করা যেত, তবে জাতীয় সক্ষমতার একটা ভিত্তি দাঁড় করানো সম্ভব ছিল। অথচ কোনো সরকার সে পথেই যায়নি।’
ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রসঙ্গ টেনে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। এ রাষ্ট্রগুলো তাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ে, জাতীয় সক্ষমতা নিয়ে এ রকম একটা পজিশন নিতে পারে যে তারা আন্তর্জাতিকভাবে বিনিয়োগ করতে পারে। বাংলাদেশ যদি সিঙ্গাপুর হতে চায় তাহলে উল্টো দিকে গিয়ে কী করে সিঙ্গাপুর হবে? জাতীয় সক্ষমতার ওপর দাঁড়িয়েই সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশ নিজেদের অবস্থান শক্ত করে। বাংলাদেশেরও একইভাবে জাতীয় সক্ষমতার ভিত্তি তৈরি করা প্রয়োজন।’
প্রখ্যাত এ অর্থনীতিবিদ আরো বলেন, ‘কাস্টমসের পরিবর্তন দরকার, আমলাতন্ত্রের পরিবর্তন দরকার, অবকাঠামোর পরিবর্তন দরকার। বিদেশী কোম্পানি আসার সঙ্গে সেটার কোনো সম্পর্ক নেই। বিদেশী কোম্পানি আনার অর্থ শুধু অর্থনৈতিক নয়, এর যে রাজনৈতিক-সামরিক মাত্রা আছে, সেটাও আমাদের খুব গুরুত্বসহ বিবেচনা করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ কাফি রতন, মওলানা ভাসানী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. হারুন অর রশীদ, চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির নেতা ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সত্যজিৎ বিশ্বাস, ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি সায়েদুল হক নিশান, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর প্রেসিডেন্ট দিলীপ রায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোশাহিদা রিতু, নাগরিক ঐক্যের সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব আনোয়ারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।










