ঋতু পরিবর্তনের দিক থেকে ছয় ঋতুর প্রথমেই আসে গ্রীষ্মকাল। বাংলা মাস হিসেবে গ্রীষ্মকালের ভাগে রয়েছে বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ। ছয়টি ঋতুর মধ্যে উষ্ণতম ঋতু গ্রীষ্ম। কয়েকদিন ধরেই যশোরের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। গতকাল তাপমাত্রা বেড়ে দাঁড়ায় ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা দেশের ও চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। যশোর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণাধীন আবহাওয়া অফিস থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে তীব্র গরমের মধ্যে ঈদের কেনাকাটা করতে কষ্ট পোহাতে হয় সবাইকেই। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোয় লোকজনের উপস্থিতিও কম দেখা গেছে।
রেলগেট এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম মানিক বলেন, ‘সকাল ১০টার পর থেকেই রোদের তাপ বেশি অনুভূত হয়। দুপুরে তাপমাত্রা দ্বিগুণ হয়। মোটরসাইকেলে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে সড়কের পিচের গরম মুখে এসে লাগছিল।’
শহরের কোর্ট মোড় এলাকায় বসেছিলেন রিকশাচালক হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। এত গরমে মানুষ বের হবে কী করে? আমাকে পেটের দায়ে বের হতে হয়েছে।’
আবহাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, গত বছরের ৩০ জুন যশোরে তাপমাত্রা ছিল ৪৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৯৭২ সালে ১৮ মে। সেদিন রাজশাহীতে তাপমাত্রা ছিল ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
অন্যদিকে গতকাল চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা মৌসুমে জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক রকিবুল হাসান জানান, ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি তাপমাত্রা হলে সেটাকে মৃদু তাপপ্রবাহ ও ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি পর্যন্ত মাঝারি তাপপ্রবাহ বলে গণ্য করা হয়। চুয়াডাঙ্গায় ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল তাপমাত্রা ছিল ৪৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রতি বছর মার্চ ও এপ্রিলে এ জেলায় তাপমাত্রা বেশি অনুভূত হয়।










