হবিগঞ্জের মাধবপুরে পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরির কারখানাটি গড়ে উঠেছে। উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের ছাতিয়াইন-বাঘাসুরা রাস্তার পাশে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় গড়ে তোলা কারখানায় কাজ করেন ১৫-২০ শ্রমিক-কর্মচারী। কারখানার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে পরিত্যক্ত ব্যাটারির বর্জ্য-প্লাস্টিক, কার্বন ও ক্ষতিকারক পদার্থ। শ্রমিকদের কাজের জন্য নেই নিরাপত্তা সরঞ্জাম। প্রতিষ্ঠানটির সাইনবোর্ড, ট্রেড লাইসেন্স, কলকারখানা অধিদপ্তরের অনুমতি, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরির নিরাপদ চুল্লিও নেই। কারখানার ধোঁয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এমএএইচ ইশতাক মামুন বলেন, ‘ব্যাটারি পোড়ানোর ধোঁয়া মানবদেহে প্রবেশ করলে মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসে ক্যান্সার, মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিসহ বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। এমনকি মানসিক বিকৃতি ও রক্তশূন্যতাও হতে পারে। প্রভাব পড়তে পারে লিভার ও কিডনিতেও।’

জমির আলী নামে কারখানার এক শ্রমিক বলেন, ‘এখানে অধিকাংশ শ্রমিকের বাড়ি উত্তরবঙ্গে। দিনের বেলায় ব্যাটারি ভাঙা হয়, রাতে পুড়িয়ে সিসা তৈরি করা হয়। ব্যাটারি পোড়ানোর কোনো চুল্লিও নেই। তাই উন্মুক্ত স্থানেই পোড়ানো হয়।’

ছাতিয়াইন ইউনিয়নের মেম্বার আবুল খায়ের বলেন, ‘কারখানার মালিক জাবেদ মিয়ার বাড়ি পাশের ছাতিয়াইন গ্রামে। ব্যক্তিগতভাবে তাকে অনুরোধ করেছি এটা বন্ধ করার জন্য। কিন্তু তিনি বন্ধ করছেন না। প্রতিদিন রাত ১২টার দিকে ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরি করেন। ছয় মাস ধরে রাতে ব্যাটারি পোড়ানো হচ্ছে। সে সময় গন্ধে ঘরে থাকা যায় না। এছাড়া পোড়ানোর স্থানে কোনো ছাউনি না থাকায় বৃষ্টির পানির সঙ্গে বিষাক্ত বর্জ্য পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।’

তবে কারখানার মালিক জাবেদ মিয়া বলেন, ‘কারখানায় পুরোনো ব্যাটারি ভেঙে ভেতরের অংশগুলো আলাদা করে বিক্রি করি। এসব করতে কোনো অনুমতির প্রয়োজন হয় না।’ এজন্য তিনি কারো অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন মনে করেননি।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আহসান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে এর আগে কেউ অভিযোগ করেনি। খোঁজ নিয়ে কারখানাটি উচ্ছেদে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সার্বিক বিষয়ে সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এমরান আহমেদ বলেন, ‘প্রকাশ্যে ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরি করলে বায়ুদূষণ ও আশপাশে বসবাসরত প্রাণীর ক্ষতি হয়। যত দ্রুত সম্ভব কারখানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’