পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি সেক্রেটারি ক্রিস রাইটের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। তার সঙ্গে আমি বেশ কয়েকটা বিষয়ে কথা বলেছি। আমরা গোপনীয়তার স্বার্থে এটা এখন পরিষ্কার করতে পারছি না। কিন্তু আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য তারা সাপোর্ট করবেন, সেই নিশ্চয়তা দিয়েছেন।

আজ রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূতের প্রথম সাক্ষাত, এটা ছিল সৌজন্য সাক্ষাত। এ সাক্ষাতের সুযোগে দুই দেশের সম্পর্ক এবং সম্পর্কটা আমরা কোথায় নিয়ে যাই, সেই সম্পর্কে সাধারণ আলোচনা হয়েছে। যে বিষয়গুলো এসেছে তার মধ্যে আছে দুদেশের বর্তমান সহযোগিতা বিশেষ করে জ্বালানি বাণিজ্য উন্নয়ন সহযোগিতা। সেইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের যে সাহায্য যুক্তরাষ্ট্র দিয়ে যাচ্ছিল, তারা পৃথিবীর সবচাইতে বড় ডোনার রোহিঙ্গাদের জন্য, তাদের সাহায্য অব্যাহত রাখা, এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা হয়নি।

জ্বালানি সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা করা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আমার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি সেক্রেটারি ক্রিস রাইটের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। তার সঙ্গে আমি বেশ কয়েকটা বিষয়ে কথা বলেছি। আমরা গোপনীয়তার স্বার্থে এটা এখন পরিষ্কার করতে পারছি না। কিন্তু আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য তারা সাপোর্ট করবেন, সেই নিশ্চয়তা দিয়েছেন।

অন্য জায়গা থেকে তেল কিনতে আমাদের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপন চুক্তি ছিল, সে কারণে আমরা অন্য দেশ থেকে তেল কিনতে পারছিনা, এরকম কোন বিষয় আছে?—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের কোনো গোপন চুক্তি নাই। যে চুক্তি হয়েছে সেটা আমরা প্রকাশ করে দিয়েছি। কেউ কেউ বলছেন, এ চুক্তির কারণে আমাদেরকে আমেরিকার কাছে পারমিশন চাইতে হচ্ছে, একেবারে মিথ্যা কথা। রাশিয়া থেকে তেল কেনার ব্যাপারে সব দেশের ওপর রেস্ট্রিকশন আছে। সুতরাং আপনাকে সেই রেস্ট্রিকশনের ওয়েভার চাইতে হয়। এটার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির কোনো সম্পর্ক নেই।

বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি ক্রয় প্রসঙ্গে আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমরা সব রকম সোর্স থেকে কিনব। আমরা চাইছি, আমাদের ক্রেতারা সুলভ মূল্যে ডিজেল কিংবা অন্যান্য এনার্জি পাবে, যেটা আমরা পাই। দুনিয়াতে আমরা সবচাইতে সাশ্রয়ী যে সমস্ত সোর্স, সেটা ভারত হোক, সেটা মধ্যপ্রাচ্য হোক, সেটা যুক্তরাষ্ট্র হোক, আমরা সব জায়গায় চেষ্টা করছি।