দেশের বাজারে গমের ভুসির বাড়তি চাহিদাকে ঘিরে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে গমের ভুসি আমদানি করে বিপাকে পড়েছেন বন্দরের আমদানিকারকরা। চাহিদা না থাকায় ও ক্রেতা সংকটের কারণে গমের ভুসি বিক্রি একেবারে কমে গেছে বলে জানিয়েছেন তারা। এতে সপ্তাহের ব্যবধানে ভুসির দাম কমেছে কেজিতে ১২ থেকে ১৩ টাকা। এদিকে লোকশানের আশঙ্কায় অনেক আমদানিকারক বন্দর থেকে ভুসি খালাস নিচ্ছেন না। এতে করে বন্দরে পণ্যজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারি মাসে বন্দর দিয়ে ৩৯৭টি ট্রাকে আট হাজার ৫৮৩ টন গমের ভুসি আমদানি হয়েছে। এছাড়া ফেব্রুয়ারি মাসে ৫৩৮টি ট্রাকে ১১ হাজার ৬৫১ টন ভুসি আমদানি হয়েছে। মার্চ মাসে ৭১৫টি ট্রাকে ১৫ হাজার ২৬২ টন ভুসি আমদানি হয়েছে। এপ্রিল মাসে ৬৬৯টি ট্রাকে ১৪ হাজার ২৯৯ টন ভুসি আমদানি হয়েছে। মে মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত বন্দর দিয়ে ৫৪৬টি ট্রাকে ১১৯৩৬টন ভুসি আমদানি হয়েছে।
হিলি স্থলবন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে গমের ভুসি সরবরাহকারী রজিত আলী বলেন, আমি হিলি স্থলবন্দর থেকে গমের ভুসি কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে থাকি। চলতি মাসের দ্বিতীয়ার্ধে ভারত গম রফতানি বন্ধ করে দিলে হঠাৎ করেই গমের ভুসির বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠে। গত এক সপ্তাহ আগে বন্দর থেকে কিনেছিলাম ৪৯ টাকা কেজি দরে, সেই ভুসি এখন ৩৬ টাকায় নেমে এসেছে। মূলত বন্দর দিয়ে গমের ভুসির আমদানি বেশি হওয়ার কারণেই দাম কমে এসেছে।
হিলি স্থলবন্দরে ভারত থেকে গমের ভুসি নিয়ে আসা ভারতীয় ট্রাক চালক নওশাদ রেজা বলেন, আমরা ভারত থেকে গমের ভুসি নিয়ে হিলি স্থলবন্দরে এসেছি। আমাদের ৮ থেকে ১২ দিন হয়ে গেলো বন্দরে আসা কিন্তু আমাদের ট্রাক থেকে ভুসি খালাস করা হচ্ছেনা। এতে করে আমরা যে টাকা পয়সা নিয়ে এসেছিলাম সেগুলো শেষ হয়ে।
হিলি স্থলবন্দরে গমের ভুসি কিনতে আসা আমির হোসেন বলেন, এক সপ্তাহ আগে হিলি স্থলবন্দরে গমের ভুসির দাম বেশ ঊর্ধ্বমুখী ছিল। ভুসির দম তখন ৪৫ থেকে ৪৮ টাকায় দাম উঠে গিয়েছিল। বর্তমানে সেই অবস্থা থেকে কমে পণ্যের মান ভেদে ৩৬ থেকে ৩৭ টাকায় নেমে এসেছে। আমরা চাই যে ভুসির দামটা স্থিতিশীল থাকুক এতে করে খামারিরা বেঁচে থাকবে। এক কেজি ভুসি যদি ৫২ থেকে ৫৫ টাকা খুচরা বিক্রি হয় যারা গবাদিপশু লালন পালনকারীরা বিপদে পড়ে যাবে। তাই খামারিদের বাঁচিয়ে রাখতে হলে ভুসির দাম কমাতে হবে।
হিলি স্থলবন্দরের গমের ভুসি আমদানিকারক বাবলুর রহমান বলেন, ১৩ মে থেকে ভারত সরকার গম রফতানি বন্ধ করে দিলে ভুসির সংকটের আশঙ্কায় মানুষ বাড়তি ভুসি কিনে রেখেছিল। ফলে মোকামগুলোতে হঠাৎ করেই গমের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমায় দাম খানিকটা বেড়ে গিয়েছিল। ফলে ওই সময়ে বন্দর দিয়ে ব্যাপক পরিমাণে গমের ভুসি আমদানি করেছেন আমদানিকারকগণ। বর্তমানে ভুসির ক্রেতা সংকট দেখা দেয়ায় ভুসির দাম কেজি প্রতি ১২ থেকে ১৩টাকা করে কমে গেছে। এছাড়া ৮৬ টাকা ডলারের দাম হিসেবে এলসি করে বিল ছাড়তে হচ্ছে ৯৩ থেকে ৯৫ টাকা হিসেবে। এতে করে একদিকে যেমন ডলারের কারণে লোকসান গুণতে হচ্ছে, তেমনি ভুষির দাম কমায় বাড়তি লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে আমদানিকারকদের।
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে গমের ভুসি আমদানি অব্যাহত রয়েছে। তবে আগে যেখানে বন্দর দিয়ে ৪০ থেকে ৫০ ট্রাক করে আমদানি হতো বর্তমানে সেখানে আমদানি ১৫ থেকে ২০ ট্রাকে নেমে এসেছে। সেই সঙ্গে আমদানিকারকগণ বন্দর থেকে ভুসি খালাস কমিয়ে দিয়েছেন। বন্দরের ভেতরে গমের ভুসিবাহী ১০০ ট্রাক আটকা রয়েছে। এতে করে বন্দরের অভ্যন্তরে পণ্যজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তবে আমরা আমদানিকারকদের চাহিদা মোতাবেক ও কাস্টমসের সকল প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত যেন খালাস নিতে পারে এজন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে রেখেছে।










